নিজের রূপ দেখে মুগ্ধ! পলাতক ময়ূর ধরতে ‘আয়না ফাঁদ’

নিজের রূপ দেখে মুগ্ধ! পলাতক ময়ূর ধরতে ‘আয়না ফাঁদ’

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে এক দম্পতির বাড়ির বাথরুমে ঢুকে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছে এক ময়ূর! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ‘নিজের রূপ উপভোগ করতে’ থাকা ময়ূরটিকে দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক। পরে বন্য প্রাণী উদ্ধারকারীরা ময়ূরটিকে ধরে কাছের বন্য এলাকায় ছেড়ে দেন। কিন্তু তাতেও বিপত্তি কাটেনি। ময়ূরটি এখনো পলাতক, সে মালিকের বাড়ি ফেরেনি। তাকে ধরতে এবার পাতা হয়েছে অভিনব ‘আয়না ফাঁদ’।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়ূরটির নাম হেক্স। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের আলেকজান্দ্রা হিলসে নিজেদের বাড়ি থেকে সন্ধ্যায় কফি খেতে বেরিয়েছিলেন জিওফ ও ডেলউইন ব্যালানটাইন দম্পতি। ফিরে এসে বাথরুমে ঢুকতেই তাদের চোখ কপালে ওঠে। সেখানে পূর্ণবয়স্ক একটি ময়ূর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।

জিওফ বলেন, ‘আমাদের ধারণা, ময়ূরটি সামনের উঠানে ছিল। আমরা গ্যারেজের দরজা খোলার পর সেটি ভেতরে ঢুকে পড়ে। কারণ, আমরা যখন বাড়িতে ঢুকি, তখন দেখি সে আয়নায় নিজের রূপ দেখছে।’

প্রথমে ময়ূরটিকে দেখতে পান ডেলউইন। অপ্রত্যাশিত অতিথিকে দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। জিওফ বলেন, ‘আমার স্ত্রী প্রচণ্ড চিৎকার করছিলেন। প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, বাড়িতে কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। পরে তিনি বললেন, এটা একটা ময়ূর। আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু বিশ্বাস করতে চাইছিলাম না। কারণ, বিষয়টি অবিশ্বাস্য ছিল।’
ওই দম্পতি আয়না থেকে ময়ূরটির মনোযোগ সরাতে পানি ও বিস্কুট দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত বন্য প্রাণী উদ্ধারকারীদের খবর দেয়া হয়। তারা একটি তোয়ালে দিয়ে ময়ূরটিকে ধরে কাছের ঝোপঝাড়ে ছেড়ে দেন।
কিন্তু এরপর ময়ূরটি নিজের বাড়িতে ফেরেনি। বরং সেটি প্রতিদিন বিকেলে একই এলাকার বাসিন্দা সুজি তাফোলোর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে।

তাফোলোর ধারণা, ময়ূরটি স্থানীয় ট্যাটুশিল্পী এলিয়ট রসের হারিয়ে যাওয়া পোষা ময়ূর হেক্স হতে পারে। রসও তার ময়ূর হারিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে ময়ূরটির অস্বাভাবিক পালক দেখে তিনি নিশ্চিত করেন, এটিই তার পোষা হেক্স।
ময়ূরটিকে ধরতে তাফোলো ইন্টারনেটে নানা কৌশল খুঁজতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘কীভাবে ময়ূর ধরতে হয়, তা গুগলে খুঁজেছি। জীবনে কখনো ভাবিনি, আমাকে এমন কিছু করতে হবে। সেখানে একটি পরামর্শ ছিল, ময়ূর আয়না খুব পছন্দ করে। বাথরুমে সে কীভাবে ঢুকেছিল, তা এখন বুঝতে পারছি।’

এরপর নিজের বাড়ি থেকে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য আয়না নিয়ে হেক্সের যাতায়াতের জায়গায়, পেছনের শেডে স্থাপন করেন তাফোলো। মঙ্গলবার আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে ময়ূরটিকে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এতে শিগগিরই তাকে ধরে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাফোলো।

এলিয়ট রস জানান, প্রতিবেশীর বাড়িতে একবার যাওয়া ছাড়া এর আগে হেক্স কখনো এভাবে ঘুরে বেড়ায়নি। তাদের বাড়িতে একটি স্ত্রী ময়ূরও রয়েছে, কিন্তু সেটি কোথাও যায়নি। রসের ধারণা, হয়তো অন্য কোনো স্ত্রী ময়ূরের খোঁজেই হেক্স ঘর ছেড়েছে।
গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, নগর প্রতিবেশবিদ ও ‘ওয়াইল্ড নেইবার্স’ বইয়ের লেখক ড্যারিল জোনস পাখিরা আয়নায় নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তার মতে, হেক্স হয়তো একাকিত্বে ভুগছে, তবে সে যে প্রেমের খোঁজে বেরিয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। জোনস বলেন, ‘বেশির ভাগ পাখি আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বকে প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা হুমকি হিসেবে দেখে এবং সাধারণত তার সঙ্গে লড়াই করে। কিন্তু এই পাখিটি হয়তো নিঃসঙ্গ।’



তিনি আরও বলেন, দুটি পুরুষ ময়ূরকে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা বেশ অস্বাভাবিক। তবে কখনো কখনো এমনটা ঘটে। ময়ূর খুব একটা বুদ্ধিমান প্রাণী নয়। সে হয়তো বোকা, কিন্তু স্ত্রী ময়ূর দেখতে কেমন, তা সে ঠিকই জানে।