যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরাইলকে আর কোনো অর্থ সহায়তা দেবে না ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর পর ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরাইলকে অর্থ সহায়তা দেয়ার বিষয়ে বলতে গেলে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আমি একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি। আমরা ইসরাইলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিয়ে থাকি। কয়েক মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই সহায়তা বন্ধ করে দেব।’
এ বছর ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এবং ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে মার্কিন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার তহবিলে অর্থ দেয়ার বিষয়টি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের মধ্যেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন রাজনৈতিক নেতাদের মুখে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের অবিচল সমর্থনের ধারায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত জুলাইয়ে ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তবে প্রস্তাবটির পক্ষে প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্যের সমর্থন ছিল।
গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান দূরত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে এ ঘটনাকে।
কেন্টাকির বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যয়সংক্রান্ত একটি বিলে সংশোধনী হিসেবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ম্যাসির প্রস্তাবের বিপক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট পড়ে ৩১৪টি। পক্ষে ভোট দেন ১০৪ জন সদস্য। ফলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।
