মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের দু’দফা বিক্ষোভের চেষ্টা, সরিয়ে দিলো পুলিশ, দু’দিনে গ্রেপ্তার ২৯

ফন্ট সাইজ:

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকেরা তৃতীয় দিনের মতো সড়কে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে সোমবার সকাল থেকে তাদের দু’দফা সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তাদের সরিয়ে দিতে মিরপুর-১৪ এলাকায় একদফা ধাওয়া দেয়া হয় এবং আরেক দফা মিরপুর-২ এলাকায় পুলিশকে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভ থেকে গত দুই দিনে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার। তিনি বলেন, ‘আজ শ্রমিকেরা দু’দফায় রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছিলো। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’

এদিকে, সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-৬ নম্বর এবং শিয়ালবাড়ী ও পূরবী এলাকার কয়েকটি গার্মেন্টস থেকে শ্রমিকরা মিরপুর-২ নম্বর হয়ে ১০ নম্বর এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেয়। স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা জানান, শ্রমিকেরা শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে জড়ো হয়েছিলো। তখন পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

এর আগে সকাল ৯টায় মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।

গতকাল শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন, গাড়ি ভাংচুর ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরসহ নানা ঘটনায় মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন থানায় অন্তত ৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার বলেন, আরও মামলা হবে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ জন গ্রেপ্তার ছিল। আজ দুপুর পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তার ২৯ জন।

মিরপুর গোল চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুষ্কৃতিকারী, যারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে, যারা আইন লঙ্ঘন করে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি করতে চায়, তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে এখানে। যেই হোক, আমাদের কাছে যারা আইন অমান্য করছে, আইন লঙ্ঘন করছে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করতে চাচ্ছে বা করছে, তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী। আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো অপরাধীর বিশেষ কোনো পরিচয় নাই। যারা আইন অমান্য করছেন, আইন অমান্য করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বা সম্পদের নষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী। আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’