প্রোটেকশন ভিসায় নতুন বিধিনিষেধ, অস্ট্রেলিয়ার বাইরে গেলে ফেরার পথ অনিশ্চিত

প্রোটেকশন ভিসায় নতুন বিধিনিষেধ, অস্ট্রেলিয়ার বাইরে গেলে ফেরার পথ অনিশ্চিত

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ায় প্রোটেকশন ভিসার আবেদন করে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১ নভেম্বর থেকে এসব আবেদনকারীর জন্য নতুন করে ব্রিজিং ভিসা বি পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে প্রোটেকশন আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা এখন থেকে ব্রিজিং ভিসা বি ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে বিদেশ ভ্রমণ এবং পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুবিধা নিতে পারবেন না।
অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রোটেকশন ভিসা (সাবক্লাস ৮৬৬) সংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে প্রোটেকশন ভিসার আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা বিদেশ ভ্রমণ করে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার জন্য নতুন করে ব্রিজিং ভিসার আবেদন করতে পারবে না।

এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রোটেকশন ভিসার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।


এদিকে এই বিধিনিষেধের কারণে বিশেষ করে যাদের পরিবারের সদস্য বাংলাদেশে বসবাস করেন, তাদের জন্য জরুরি প্রয়োজনে দেশে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ছাড়লে কি আর ফেরা যাবে?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রোটেকশন ভিসার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা ১ নভেম্বর থেকে নতুন করে ব্রিজিং ভিসা বি পাবেন না। ফলে তাদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার সুযোগ সীমিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিজিং ভিসা এ এবং ব্রিজিং ভিসা বি-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ব্রিজিং ভিসা এ অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ দিলেও বিদেশ ভ্রমণ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার অনুমতি দেয় না। অন্যদিকে, ব্রিজিং ভিসা বি নির্ধারিত ভ্রমণসীমার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ এবং পুনরায় প্রবেশের সুযোগ দেয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ ব্রিজিং ভিসা নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্রিজিং ভিসা বি-এর নির্ধারিত ভ্রমণসীমা শেষ হয়ে গেলে ওই ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা যায় না। নতুন বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত প্রোটেকশন ভিসা আবেদনকারীরা ভ্রমণসীমা শেষ হওয়ার পর নতুন ব্রিজিং ভিসা বি-এর আবেদনও করতে পারবেন না।

১ নভেম্বরের আগে আবেদন করলে কী হবে?

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার আগেই যারা ব্রিজিং ভিসা বি-এর জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ নভেম্বরের আগে দাখিল করা আবেদনগুলো নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। অর্থাৎ, নতুন নীতির কারণে আগের আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে না। তবে আবেদন জমা দিলেই ভিসা অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় শর্ত যাচাইয়ের পর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তাই আগে আবেদন করে থাকলে জমা দেওয়ার প্রমাণ, অভিবাসন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ রাখা জরুরি।

আগে থেকেই যাদের হাতে রয়েছে ব্রিজিং ভিসা

নতুন বিধিনিষেধের অর্থ এই নয় যে, আগে অনুমোদিত সব ব্রিজিং ভিসা বি বাতিল হয়ে গেছে। বিদ্যমান ভিসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত শর্ত ও ভ্রমণসীমা বহাল থাকবে। তবে কারও ভিসার ভ্রমণ সুবিধা-এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন নিয়মের আওতায় আরেকটি ব্রিজিং ভিসা বি পাওয়ার সুযোগ থাকবে না, যদি তিনি সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত হন। অর্থাৎ, আগে ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছিলেন বলেই ভবিষ্যতেও একই সুবিধা পাবেন—এমন ধারণা করা যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিকল্প কোনো বিশেষ ভ্রমণ অনুমতির ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়নি। তাই আগে থেকে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদেরও ভ্রমণের তারিখ, প্রবেশের শেষ সময় এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তা

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রোটেকশন ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অনেকের বাবা-মা, ভাইবোনসহ নিকটাত্মীয়রা বাংলাদেশে থাকেন। পরিবারের কারও গুরুতর অসুস্থতা, মৃত্যু কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে অন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ব্রিজিং ভিসা বি সংগ্রহের মাধ্যমে বিদেশ সফর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের কারণে সেই পথ আর খোলা থাকছে না। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারিবারিক যোগাযোগ, জরুরি যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভ্রমণের আগে যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি


নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর প্রোটেকশন ভিসার আবেদনকারীদের যেকোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নিজের বর্তমান ভিসার ধরন ও শর্ত যাচাই করতে হবে,
ব্রিজিং ভিসা বি থাকলে এর ভ্রমণ সুবিধা-এর শেষ তারিখ দেখতে হবে, আবেদন নিষ্পত্তি কিংবা পর্যালোচনা চলমান থাকলে দেশ ছাড়ার আগে অভিবাসন আইনজীবী বা নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্টের পরামর্শ নিতে হবে। ১ নভেম্বরের আগে আবেদন জমা দিয়ে থাকলে সেটির বৈধতা ও বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারও মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে বিদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ার নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট অথবা অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।