পতিত স্বৈরাচার সমর্থিত পক্ষ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পতিত স্বৈরাচার সমর্থিত পক্ষ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

পতিত স্বৈরাচার সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সকালে সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেছি। বিগত কয়েকদিনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিশ্লেষণ করেছি। গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং বিকেএমইএ, বিজিএমএ শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি অনুসারে এবং সরকারের ইতিপূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের যে দাবি, সেটা আমরা কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। মালিক পক্ষের প্রতিনিধির নামও তারা দিয়েছিলেন। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে তারা কয়েকদিন সময় নিয়েছিলেন। সর্বশেষ সেটা গত পরশু রাতে তারা তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমমন্ত্রী গতকাল রোববার সকালে শ্রমিক-মালিক পক্ষের নাম নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি—বিগত কিছুদিন যাবত একটি পতিত স্বৈরাচার সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিক ভাইবোনদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। হয়তো আজকেই মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে। অথবা সম্ভাব্য খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন। আলাপ-আলোচনা হবে। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শিগগিরই তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ঘোষণা হতে পারে। তবে সময় রেখা ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনিতেই আছে তিন বছর পূর্ণ হতে। আশা করি তারা সকল পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা-পরামর্শ দিয়েছেন যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। তাদের জীবনমানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে সেই বিষয়টা নির্ধারিত হয়। এটা আলাপ-আলোচনা হবে উভয়পক্ষের মধ্যে। বাস্তবতার নিরিখে সেটা নির্ধারিত হবে। এখানে অসন্তোষের কিছু নেই। যে সমস্ত সহিংস ঘটনা বিগত কয়েকদিনে হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ যাবত সংঘঠিত করার চেষ্টা করছে, সড়ক মহাসড়ক অবরোধ করে, আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে—তাদের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে তারা চিহ্নিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এখানে দুঃখজনক হলো—কিছু শিল্প মালিক, মিল মালিকরা জড়িত আছেন এবং কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে যারা শ্রমিকদের কল্যাণ চায় কি-না সেটা প্রশ্নবিদ্ধ, সেই সমস্ত কিছু লোকজনও এই অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় আন্দোলনের নামে তারা দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। যেটা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই—যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইন শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং দেশে একটা অস্থীতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা গতকালকেই সেইরকম কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। তাদের সে সমস্ত কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ এবং কিছু কিছু প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করেছি। অডিও আছে, ভিডিও আছে এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সচিত্র ভিডিও ক্লিপও আছে।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই—এই সরকার শিল্পবান্ধব সরকার। বিনিয়োগ-বাণিজ্যবান্ধব সরকার। রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা সকল পদক্ষেপ নেব। একই সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং স্বার্থ সংরক্ষণে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এই সরকার। আমরা সেই লক্ষ্যে ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাব। সকলের সহযোগিতা চাই। আজ বিকেলে ৩টায় আমরা সকল শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলব। আমরা সকালে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিকালে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলব । আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতামত নেয়ার চেষ্টা করব। সে মোতাবেক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

আগামী ডিসেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরবেন এমন ঘোষণা আছে। এটাকে সামনে রেখে অস্থিরতার পাঁয়তারা চলছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিসের আপনারা ডিসেম্বর, ডিসেম্বর করছেন? পলাতক খুনি, গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ তার দোসররা যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, যারা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রেডিশন ট্রিটি অনুসারে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে, যারা যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন সেখানে আমরা আবেদন জানিয়েছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছি। সেই জায়গায় ডিসেম্বর কেন, আজকেই যদি তারা প্রত্যাবর্তিত হয়, এক্সট্রাডিটেড হয় আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। কোর্টের রায় অনুসারে আমরা সেটা ব্যবস্থা নেব’—বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর ডিসেম্বর বলে একটা হাইপ তোলার চেষ্টা করছে পলাতক নেতাকর্মীদের একটু বুস্ট আপ করার জন্য। সেটা কখনো সাকসেসফুল হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পোশাক শিল্পমালিকেরা যারা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারাও অস্থিরতা সৃষ্টি পেছনে কাজ করেছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, এর পেছনে কিছু শিল্পমালিক জড়িত আছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও এর সঙ্গে জড়িত আছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু শিল্পমালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন। তাদের তালিকা দিতে মালিক সংগঠনের নেতাদের বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত শ্রমিকনেতা ও সংগঠনগুলোর নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।’