শ্রমিকদের উস্কে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পাঁয়তারা

গোয়েন্দা তথ্য

শ্রমিকদের উস্কে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পাঁয়তারা

ফন্ট সাইজ:

মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন হবে- এমন ঘোষণা আগেই দেয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে টানা কয়েকদিন ধরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফেরারও অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এসব আশ্বাসকে তোয়াক্কা না করে রোববার সকাল থেকে ফের আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। এমনকি মজুরি বোর্ড ঘোষণার পরও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ায় তারা। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যখন সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছিল তখনও আন্দোলন বন্ধ না করে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করছে। কিন্তু মজুরি বোর্ড ঘোষণার পর শ্রমিকরা কেন রাস্তা থেকে সরছে না- এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নয়া শঙ্কা। গোয়েন্দা তথ্যও চলমান আন্দোলনের সহিংসতাকে ভিন্ন ইস্যু হিসাবে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দারা বলছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের ইস্যু কাজে লাগিয়ে কথিত ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ছদ্মবেশে তৃতীয়পক্ষ আন্দোলনে ঢুকেছে। তারা শ্রমিকদের মূল লক্ষ্য থেকে সরিয়ে অন্যভাবে কাজে লাগাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রমিকের ছদ্মবেশে আন্দোলনে ঢুকে সহিংসতা চালাচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দারা যাদের গ্রেপ্তার করেছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও শিল্প পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশে বসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশে থাকা নেতাদের উস্কে দিচ্ছে। দেশে বসে দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। গোয়েন্দা নির্দেশদাতাদের অনেকের পরিচয় শনাক্ত করেছেন। কিন্তু নাগালের বাইরে থাকায় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার বলা হচ্ছে- কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশে সরকারকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার জন্য শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন বন্ধ না হওয়াতে সরকারও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছে। শ্রমিকদের উপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বল প্রয়োগ করতে পারছে না। তেমনি দাবি মানার আলোচনা, অনেকটা বাস্তবায়ন করেও কোনো সুফল আসছে না। উদ্ভট পরিস্থিতে সরকার প্রধান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন দুই দফা। বাতিল করা হয়ে শ্রমমন্ত্রীর দুবাই সফর।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকের ছদ্মবেশে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির দুরভিসন্ধি ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের ছদ্মবেশ ধারণ করে বা তাদের অন্তরালে থেকে এই নাশকতা পরিচালনা করছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান বলেছেন, আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা এই নাশকতা চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, মজুরি বোর্ড ঘোষণার পরও শ্রমিকদের এই আন্দোলনে তৃতীয় কোনো পক্ষের উস্কানি থাকতেই পারে। যারা উস্কে দিচ্ছে তাদের পরিচয়ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। আমরা শ্রমিকদের গত কয়েকদিন ধরেই বলছি সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য কাজ করছে। তাই ধৈর্য ধরে শ্রমিকরা যেন কাজে ফিরে। আমরা মন্ত্রণলায়, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। কিন্তু শ্রমিকরা রাস্তা না ছেড়ে ভাঙচুর করছে। আমরা তাদের উপর বলপ্রয়োগও করছি না। কারণ তারা তাদের দাবির জন্য রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু আমাদেরও দায়িত্ব আছে যাতে কোনো কারখানা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আবার শ্রমিকরাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেভাবেই আমরা কাজ করছি। কথিত ডিসেম্বরের সঙ্গে এই আন্দোলন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পাঁয়তারা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাতো বলা যাচ্ছে না। তবে দু’টো বিষয়ই একই সময়ে হচ্ছে। আমরা সতর্ক আছি। কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি করতে দেবো না।

আরও পড়ুন:
রণক্ষেত্র