সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান মন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর আগে, গত শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।

বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব, শ্রমিকদের প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বিজিএমইএ’র পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমান।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ই এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণার পরও একটি মহল শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়েছে। শ্রমিকদের রাস্তায় নামার ক্ষেত্রে বাইরের ইন্ধন থাকতে পারে। ডিসেম্বর ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির যে চেষ্টা চলছে, এর সঙ্গে এটার যোগসূত্র রয়েছে।

শ্রমমন্ত্রী জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী ছয় সদস্যবিশিষ্ট নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আলোচনা করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মন্ত্রী শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘোষিত বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করবে।
শ্রমিক নেতাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের দেয়া বক্তব্যগুলোর বিষয়ে অবশ্যই আমাদের কিছু করণীয় আছে। তারা যা যা বলেছেন, সেসব বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কাজ করবো। আমাদের যেমন শিল্পকারখানা রক্ষা করতে হবে, পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়াও আদায় করতে হবে।’