জামিন পেলেন জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

ফন্ট সাইজ:

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। রোববার জামিন চেয়ে আখতারুজ্জামানের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। গত সপ্তাহে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আখতারুজ্জামান। এদিন, আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম (সুজন)।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় কারাসূত্র জানিয়েছেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আদেশের কোনো নথি কারাগারে এসে পৌঁছায়নি, তিনি কারাগারেই রয়েছেন। এ বিষয়ে আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ মানবজমিনকে বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে হাইকোর্ট জামিন দিলেও লিখিত আদেশ প্রস'ত হতে আরও দু-একদিন সময় লাগবে। অতঃপর আদেশের কপি কারাগারে প্রেরণ করলে তিনি কারামুক্ত হবেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ঠা অক্টোবর রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন করা হয়। পরে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি।

গত ২রা অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে অব্যবস'াপনা, বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব। তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১লা অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ পরিসি'তিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।