ইনানীতে গ্যাস-তেলের সম্ভাবনা, মজুত নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল

ইনানীতে গ্যাস-তেলের সম্ভাবনা, মজুত নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল

ফন্ট সাইজ:

সমুদ্রঘেঁষা পর্যটন এলাকা ইনানীতে মাটির গভীর থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভূগর্ভস্থ সম্পদের সম্ভাবনা। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত গ্যাস নিঃসরণের পাশাপাশি তেল বা কনডেনসেটের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে উখিয়ার উপকূলীয় এলাকায় গ্যাস-তেলের সম্ভাব্য মজুত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য সম্পদ রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, ইনানীর এই ঘটনাকে শুধু গ্যাসের আগুন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ভূগর্ভে কী ধরনের সম্পদ রয়েছে, তার উৎস কোথায় এবং ভবিষ্যতে তা উত্তোলন সম্ভব কি না, তা অনুসন্ধানের আওতায় আনা দরকার। তবে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার ফলাফল ছাড়া সম্ভাব্য মজুতের পরিমাণ কিংবা বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন বলেন, উখিয়ার ইনানী ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাসের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। বর্তমান ঘটনাটি সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে প্রকৃত চিত্র জানতে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও পরীক্ষার বিকল্প নেই। এদিকে ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা গ্যাস নির্গমনের ধরন, আগুনের শিখা, চাপ এবং আশপাশের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার বর্তমান কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক ধারণা, নির্গত গ্যাস থার্মোজেনিক ও বায়োজেনিক, দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আগুনের শিখার রং পর্যবেক্ষণ করে গ্যাসের সঙ্গে তরল তেল বা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, দেশে সাধারণত দেড় থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে গ্যাসের মজুত পাওয়া যায়। ইনানীর ক্ষেত্রে অগভীর কোনো গ্যাসাধারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। তবে গ্যাসের প্রকৃত উৎস, ভূগর্ভস্থ গঠন এবং মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ দিন গ্যাসের শিখার উচ্চতা ও নির্গমনের চাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে বা গ্যাস নির্গমনের তীব্রতা বাড়লে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে নির্গমন বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। আর গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে কমে এলে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে গ্যাস ও তেলের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহের পাশাপাশি এখন বড় প্রশ্ন, এই নির্গমনের পেছনে কী ধরনের ভূতাত্ত্বিক গঠন কাজ করছে এবং এর সঙ্গে কোনো উল্লেখযোগ্য মজুতের সম্পর্ক রয়েছে কি না।

এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের চলাচল ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই ও লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা হয়েছে।