সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ৪ লাখ আসন

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ৪ লাখ আসন

ফন্ট সাইজ:

এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের ব্যাপক প্রভাব পড়বে উচ্চশিক্ষায়। শিক্ষার্থী মিলবে না অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট, কলেজগুলোতে। খরা থাকবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। ফলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই আসন ফাঁকা থাকবে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। চলতি বছরে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। তবে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে করতে হবে কঠিন লড়াই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আসন রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে প্রায় ৩ লাখ।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৬১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৭টিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে না চলতি শিক্ষাবর্ষে। ইউজিসির দেয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১ হাজার ৩০৯টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫১৫টি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬৩৬টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১০৯টি, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০টি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১০টি, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ১০০টি, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭৫টি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৫০টি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ১ হাজার ২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ হাজার ১০৫টি, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬১১টি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯৫৭টি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৭০টি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১৭৫টি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭৫টি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১টি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩০টি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৩০টি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৯৫টি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ১ হাজার ৮০০টি, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৮০টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৩০টি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৭০টি, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯০টি, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ২০০টি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৫০টি, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশে ২২০টি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯০টি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০৪টি, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ১২০টি, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০টি, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৬টি, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০টি, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৪টি, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭২টি, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬০টি, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬০টি এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে আসন রয়েছে ১১ হাজার ২৯০টি।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে আসন রয়েছে ১ হাজার ৫৮৬টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে ১ হাজার ৭৮৪টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২০টি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮৬টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ হাজার ৪৩৪টি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ২ হাজার ৯০টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৪৪০টি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ হাজার ৫৫টি, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৯০৫টি, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ হাজার ৯৭১টি এবং খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৪৮৬টি আসন রয়েছে। সার্বিকভাবে, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল আসন ৬৩ হাজার ৬৫৬টি এবং অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২টি। সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মোট আসনসংখ্যা ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। এর বাইরেও রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। দেশের ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে প্রতি সেমিস্টারে আসন রয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৯টি। বছরে দুই সেমিস্টার হিসাবে আসনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার। বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তির আসন ৬ হাজার ২৭৮টি। আবার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতি বছর উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যান। এ ছাড়াও এইচএসসি-সমমানে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী আর লেখাপড়া করবেন না। পূর্বের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় দেখা যায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এইচএসসি-সমমান পাস করার পর আর লেখাপড়া করেননি। অবশ্য এবার পাসের হার কম হওয়ায় এই সংখ্যা কমে আসবে। ফলে শিক্ষার্থী সংকটে চলতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান বলেন, এবারের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ফেল করার বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

এরমধ্যে অন্যতম করোনার সময় এই শিক্ষার্থীদের একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যা আর পূরণ হয়নি। আবার এই শিক্ষার্থীদের ’২৪ এর আন্দোলনের সময়েও পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। আবার কারিকুলাম পরিবর্তন নিয়েও একটা জটিলতা ছিল। তারা পরিবর্তিত কারিকুলামে পড়েছে। আবার পুরাতন কারিকুলামে ফিরে যেতে হয়েছে। যার কারণেও একটা প্রভাব ফলাফলে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পাস করেছে। পাসের হার ছিল ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। অনেক সময় তার থেকেও বেশি। এটার মাধ্যমে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়নি, শুধু সংখ্যা বেড়েছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আসনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন শিক্ষার্থী নেই আসন তো পূরণ হবে না এটা স্বাভাবিক। শুধু তাই নয় পরিকল্পনা ছাড়া হয়েছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি এখনই প্রতিষ্ঠান বা আসন কমিয়ে ফেলার পক্ষে না। আরও কয়েকটা ফল দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। কোন প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী পাচ্ছে না, কেন পাচ্ছে না, কোন প্রতিষ্ঠানের আউটকাম কেমন এসব দেখে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।