একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের রুশ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করা হতে পারে। এই তথ্যের সাহায্যে তারা সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে গত জুলাই থেকে সংঘাত চলছে। সেপ্টেম্বরে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়। গত মাসে হুতিরা সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে’ নিখুঁত হামলা চালায়। জেনেভাভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাইপলাইনটির তথ্য সংগ্রহের জন্য রুশ স্যাটেলাইট কয়েকদিন আগে থেকেই ওই এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল।
অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের প্রতিষ্ঠাতা নওয়াফ ওবায়েদ আল জাজিরাকে জানান, তারা রাশিয়ার সামরিক স্যাটেলাইটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন সেগুলো সৌদি আরব, জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেনে সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে মিলে যায়। তাদের চিহ্নিত স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার বারস-এম মিলিটারি ম্যাপিং স্যাটেলাইট, পারসোনা অপটিক্যাল রিকনেসেন্স স্যাটেলাইট, লোটোস-এসওয়ান ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট, পিওন-এনকেএস মেরিটাইম রিকনেসেন্স সিস্টেম এবং কন্ডোর-এফকেএ রাডার-ইমেজিং স্যাটেলাইট। তারা একেএস/তুন্দ্রা ইনফ্রারেড আরলি ওয়ার্নিং কনস্টেলেশনও পরীক্ষা করেছেন। ওবায়েদ আরও নিশ্চিত করেন যে, তাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী রুশ সামরিক স্যাটেলাইট ইয়েমেনে হুতিদের অভিযানকে সাহায্য করছে এবং এই তথ্যগুলো ইরানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হুতিদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
তবে ব্রাসেলস-ভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ের বলেন, অরোরার অনুসন্ধান হয়তো পুরো চিত্র তুলে ধরছে না। তিনি বলেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানকে তথ্য দিয়েছে কি না, নাকি ইরান বাণিজ্যিক উপায়ে রুশ স্যাটেলাইটের ছবি সংগ্রহ করেছে, তা নিশ্চিত নয়। তবে রুশ সামরিক স্যাটেলাইটের ছবি সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও এই তথ্য ইরানের হাতে আসতে পারে, যার কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ওবায়েদও একমত হয়েছেন যে, রুশ সমর্থিত গোয়েন্দা কাঠামোর সঙ্গে হুতিদের সুনির্দিষ্ট হামলার তথ্য প্রমাণের জন্য আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সাংবাদিকদের জানান, হুতিরা রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত এসব বিষয়ে আলোচনা করছি এবং তা চালিয়ে যাব। এদিকে হুতিরা সৌদি আরবের একাধিক স্থানে হামলা চালায় বলে দাবি করেছে। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা রাস তানুরা তেল শোধনাগারে, আবকাইকে আরামকোর স্থাপনায়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালান। এই হামলাগুলোর ফলে সৌদি আরবে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং রিয়াদের বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যার কারণে দেশটিতে হতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন বাতিল করতে হয়। বিমানবন্দরটি পরে খুলে দেয়া হলেও হুতিরা এটিকে ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করেছে।
