জার্মানিতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। শনিবার ফ্রাঙ্কফুর্টের কেন্দ্রে দাঙ্গাকারীরা দোকানপাটে লুটপাট চালিয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট ছাড়াও বার্লিন, কোলোন এবং হামবুর্গে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
‘জেনজি রেজেল্ট’(জেনজি দায়িত্ব নিচ্ছে) নামের একটি প্রচারণাগোষ্ঠী এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। স্কুলগুলোতে অর্থায়ন কমানো, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং সামরিক সেবার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ এতে যোগ দেয়। ফ্রান্সেও সম্প্রতি যুবকদের নেতৃত্বে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল, যেখানে ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।
এএফপি জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান শপিং স্ট্রিটের বড় একটি অংশ পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেনজি রেজেল্টের মুখপাত্র লিনা ফ্রেডরিখ বলেন, তাদের এই বিক্ষোভ যুদ্ধ ও জবরদস্তির বদলে শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য। তারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থায় আরও ভালো সহায়তা চান। একইসঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরোধিতা এবং সম্পদের সুষম বণ্টন তাদের প্রধান দাবি। দিনের বেলায় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতের দিকে তা সহিংস হয়ে ওঠে।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রে সহিংস দাঙ্গা চলছে। বেশ কয়েকটি দোকানের জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল ছোড়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি অস্ত্রের দোকানের জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে দুটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। হেসেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক জানান, প্রায় ১০০ জন চিহ্নিত বামপন্থি চরমপন্থি এই বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করেছে। বিক্ষোভের এমন পরিণতিকে তিনি লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সের মতো লুটপাট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই আদর্শ হতে পারে না।
