১৩ বছরের শিশুকে ‘ধর্ষণ’, দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে লন্ডন পুলিশ

দ্য সানের রিপোর্ট

১৩ বছরের শিশুকে ‘ধর্ষণ’, দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে লন্ডন পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পার্কে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও মানসিকভাবে বিপর্যয়কর’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত দুজনের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লন্ডন পুলিশ। খবর দ্য সানের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনের পর সন্দেহভাজনদের বিষয়ে নতুন তথ্য পায় তদন্তকারীরা।
বৃটিশ সংবাদপত্র দ্য সান জানিয়েছে, সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে এবার তাদের সন্ধানে সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, জনসাধারণের কাছে আবেদন জানানোর দিনই ওই দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান। তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যাপক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সন্দেহভাজনদের একজন ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং ধারণা করা হচ্ছে, এখনো তিনি বৃটেনে অবস্থান করছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় তার যোগাযোগ রয়েছে।
অন্যজন ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। তিনিও বাংলাদেশের নাগরিক। তারও টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় যোগাযোগ রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশে চলে গেছেন। তাদের সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স।
পুলিশের কাছে ভুক্তভোগী কিশোরী জানিয়েছে, হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তি তাকে প্রলোভন দেখিয়ে উইভার্স ফিল্ডস পার্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে এক পথচারী দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দ্য সান। ঘটনার পর থেকে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত চালিয়েছে। এর মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও রয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে তদন্তকারীরা।
দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্সের লন্ডন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক আলেক্সা লুকাস বলেন, ‘এক কিশোরী ভয়াবহ ও মানসিকভাবে বিপর্যয়কর হামলার শিকার হয়েছে। পুলিশ সন্দেহভাজন যে দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চায়, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে তাদের খুঁজে বের করা এখন অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে সামান্যতম তথ্য থাকলেও তা ক্রাইমস্টপার্সকে জানাতে পারেন। তথ্যদাতাকে কখনোই নিজের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করতে হবে না। আপনাদের দেয়া তথ্য তদন্তে অগ্রগতি আনতে এবং অন্য তরুণীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে।’