আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো

আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো

ফন্ট সাইজ:

আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শফিকুর রহমান সংসদে নবনির্বাচিত স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ ও সারা দেশের নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নবগঠিত সংসদ একটি গতিশীল, প্রাণবন্ত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।

তিনি মহান আল্লাহ্‌র প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং ১৯৪৭, ১৯৫২ ও ১৯৭১ সালের আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে শাপলা চত্বরে নিহতদেরও স্মরণ করেন এবং ‘ফ্যাসিবাদী সময়কালে’ নির্যাতনের শিকারদের কথাও উল্লেখ করেন।

এ সময় জুলাই ’২৪ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আত্মত্যাগকারীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, তাদের সংগ্রামের ফলেই বর্তমান সংসদ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও নির্যাতিতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ একটি নিয়মিত সংসদ নয়, বরং এটি মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তারা ন্যায় ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

জামায়াত আমীর বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সংসদ এবং সংসদীয় রাজনীতি খুব অল্প সময়ের জন্যই সত্যিকার অর্থে কার্যকর ছিল। তার মতে, সংসদ যখনই সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে তখনই জনগণ উপকৃত হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় তা স্বৈরাচারী প্রবণতার অধীনে পড়ে কার্যকারিতা হারিয়েছে।

‘স্পিকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন’- তিনি বলেন, এই পদক্ষেপে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে যে, সরকার ও বিরোধী দল- উভয় পক্ষই সমান আচরণ পাবে। স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদ গতিশীল ও গঠনমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এবারের সংসদে অনেক তরুণ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা অতীতে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন। আর সংসদীয় আলোচনায় ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্র হননের পরিবর্তে জনগণের কল্যাণমূলক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য পাওয়া উচিত। অতীতের অনেক সংসদে এ সব কারণে সময় অপচয় হয়েছে। সংসদ কখনোই ব্যক্তিকে হেয় করার স্থান হওয়া উচিত নয়। সংসদ পরিচালনায় স্পিকারকে তার দলের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, সংসদ রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভের একটি। এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সেভাবেই কাজ করবে।

জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশার কথা স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রধান দাবি ছিল ন্যায়বিচার। ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্যায়ের অবসান ঘটাতে সংসদ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। বক্তব্যের শেষে স্পিকারের সুস্বাস্থ্য ও সংসদ কার্যকরভাবে পরিচালনায় তার সফলতা কামনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

সিরু

৪ মাস আগে

বাংলাদেশের সব কিছুই ১৯৭১ উপর দাঁড়িয়ে। তোরা রাজাকারেরা সেই ৭১ এর বিরোধী।

এম.টি রক্সি

৪ মাস আগে

আপনারা রাষ্ট্রপ্রতির ভাষণ বর্জন করেছেন তাঁর কর্মকান্ডের জন্য।কিন্তুু তাঁর পদকে তো আপনারা সম্মান করতে পারতেন। আমি বলছি না ওনি ভালো। আপনি তো জাসদ করতেন। আপনাকে বিবেকবান লোক মনে করি। তাই আপনার কাছে অনুরোধ আগামী দিন সংসদ অধিবেশনে ১৯৭১ সালের আপনার দলে কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা ছেয়ে দলকে কলঙ্কমুক্ত এবং আপনারকেও দায়মুক্ত করবেন। তা নাহলে একদিন আপনার উত্তরসুরি আপনার জন্য সাফার করবে।

মন্তব্য করুন