আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসঙ্গে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল প্রেসক্লাবে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি সংসদে একদিনে বিল এনে সব রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করে বাকশাল কায়েম করেছিলেন। রক্ষীবাহিনী গঠন করে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ হাসিনাও পল্টন ট্র্যাজেডি ঘটিয়ে এবং এর রক্তাক্ত স্মৃতির মধ্য দিয়ে সেনাশাসন নিয়ে এসেছিলেন। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সঙ্গে আঁতাত করে সাজানো-পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে একের পর এক প্যাকেজ প্রোগ্রাম করেছেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জামায়াতে ইসলামীর শ্রেষ্ঠ নেতাদের ফাঁসির আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৫-১৬ বছর ধরে নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা ও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হেলিকপ্টার দিয়ে একটি দেশের সরকার সেই দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, নিহতদের লাশ পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা যখন নির্বাচন দিতে চাননি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানতে চাননি এবং একতরফা নির্বাচন করে গণতন্ত্রের সব আয়োজনকে তার পিতার মতো হত্যা করেছেন, তখন গণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগ তারও হয়নি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে যেমন ক্ষমতায় আসা-যাওয়ার গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণের সুযোগ ছিল না, তেমনি শেখ হাসিনাকেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অস্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসঙ্গে যায় না।
বিএনপির উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতি বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, বাংলাদেশকে মানবিক, ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার সেই দায়িত্ব তারা ভুলে গেছে।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বইঠার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথ হারিয়েছিল। রক্ত দিয়ে তারা ভেবেছিলেন, দেশকে আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে। বিচার-আচার নিয়ে গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করে গণতন্ত্রের পথে আবার অন্তরায় সৃষ্টি করছে এবং সেই পথ রুদ্ধ করতে চাইছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এ পথ ফ্যাসিবাদের পথ, গণতন্ত্র হত্যার পথ। তারা ছাড়া আর কেউ থাকবে না, তারা যা বলবে, তাই বলতে হবে, এটাই ফ্যাসিজম। সংসদীয় গণতন্ত্রের জায়গায় এসে তারা আবার সংসদীয় ফ্যাসিজম শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের রক্তদানের মধ্য দিয়ে শহীদরা বাংলাদেশকে যে পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ তা হতে দেয়নি; বরং ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করে তারা আবার নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে চান।
