যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-এর সাবেক পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন ফেডারেল কৌঁসুলিরা। আদালতে দাখিল করা একটি নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমালোচক কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার এটি বিচার বিভাগের তৃতীয় উদ্যোগ। তিন পৃষ্ঠার আদালতের নথিতে দুটি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে কোমির আইনজীবীরা আদালতে পৃথক নথিতে বলেছেন, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে গোপনীয় তথ্য প্রকাশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই মামলা করা হয়েছে। ওই সময় এফবিআইয়ের পরিচালক ছিলেন কোমি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
সোমবার সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোমি। অভিযোগগুলোকে তিনি ‘বিচার বিভাগের ক্ষমতার ভয়াবহ অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, এটি যদি এতটা ভয়াবহ অপব্যবহার না হতো, তাহলে প্রায় হাস্যকর মনে হতো। বিচার বিভাগের এমন ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে না পড়ি। তিনি আরও বলেন, আমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমি এখনো নির্দোষ, এসব মানুষকে এখনো ভয় পাই না এবং এখনো বিশ্বাস করি, ফেডারেল বিচারব্যবস্থা স্বাধীন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে কোমির বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এটি এমন একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত নথি, যা কৌঁসুলিরা সরাসরি আদালতে দাখিল করে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনতে পারেন। এটি গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন নিয়ে দাখিল করা ফৌজদারি অভিযোগপত্রের (ইনডাইটমেন্ট) চেয়ে আলাদা। গ্র্যান্ড জুরি হলো শপথ নেয়া নাগরিকদের একটি প্যানেল, যারা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করেন। কোমির আইনজীবী প্যাট্রিক ফিটজেরাল্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, এক দশক আগে নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে কথিত তথ্য ফাঁসের ঘটনা নিয়ে ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন আমলে দুই দফায় পৃথক কৌঁসুলি দল তদন্ত করেছিল। তিনি বলেন, দুইবারই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা উচিত হবে না।
আইনজীবী আরও বলেন, আদালতে দাখিল করা নথিতে কোমির বিরুদ্ধে এমন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তিনি করেননি। কোমির আইনজীবীরা অভিযোগগুলো খারিজের আবেদন করেছেন। সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি গ্লেন কির্শনার বিবিসিকে বলেছেন, এ মামলার ক্ষেত্রে অপরাধের জন্য মামলা করার ১০ বছরের আইনগত সময়সীমা (স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনস) পেরিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। এ কারণে অভিযোগ খারিজের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। কির্শনারের মতে, কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতিশোধ নেয়ার তাগিদ থেকে তার বিচার বিভাগকে দিয়ে এমন কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ভিত্তিতে মামলা টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এফবিআইয়ের পরিচালক পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন কোমি। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্ত শুরু করার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে কোমির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ উদ্যোগটি নিয়ে তার প্রশাসন এ পর্যন্ত তিনবার কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার চেষ্টা করল।
সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমির বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো ফৌজদারি অভিযোগ
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
৩ ঘন্টা আগে
২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৯ঃ৪৫ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
