শিগগিরই পতন যুক্তরাষ্ট্রের? সামনে ২৭ বছরের বিশ্বযুদ্ধের অশনিসংকেত

দ্য সান এক্সক্লুসিভ

শিগগিরই পতন যুক্তরাষ্ট্রের? সামনে ২৭ বছরের বিশ্বযুদ্ধের অশনিসংকেত

ফন্ট সাইজ:

‘আমেরিকার নস্ত্রাদামুস’ নামে পরিচিত এক ভবিষ্যদ্বক্তার ভয়াবহ পূর্বাভাস ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি, ২০২৮ সালের মধ্যে একের পর এক পরমাণু হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং ২৭ বছরব্যাপী বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঘটলে মানবসভ্যতা দীর্ঘ অন্ধকার যুগে প্রবেশ করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
জন হোগ নামের এই মার্কিন ভবিষ্যদ্বক্তা প্রায় চার দশক ধরে প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্লেষণ করছেন। ষোড়শ শতকের ফরাসি জ্যোতিষী ও ভবিষ্যদ্বক্তা মিশেল দ্য নস্ত্রেদামের (নস্ত্রাদামুস) লেখা বিশ্লেষণ করেই তিনি পূর্বাভাস তৈরি করেন।

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের সঙ্গে একান্তভাবে প্রকাশিত তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতি বছরই পরমাণু বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। হোগের আশঙ্কা, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরমাণু হামলা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তার ভাষায়, ইরানে পরমাণু হামলা চালানোর বিষয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এখনো ৫০-৫০। তিনি বলেন, ‘এটি বিপদের এক নতুন ধারা, যে বিষয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছি। পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অস্ত্রের মজুত যখন শেষ হয়ে যাবে, তখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কেবল বিপুল পরিমাণ কৌশলগত এবং পরে আন্তমহাদেশীয় কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রই অবশিষ্ট থাকবে।’

ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছেন হোগ। তার মতে, মাউন্ট পিকঅ্যাক্সের মতো স্থাপনায় আঘাত হানতে মাটির গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম পরমাণু ওয়ারহেড ব্যবহার করতে পারেন ট্রাম্প। এমন হামলা হলে বিশ্বজুড়ে তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

হোগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরব সাগরে মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র এবং উত্তর কোরিয়ার আক্রমণাত্মক ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এতে বিমানবাহী রণতরি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনার প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে তার দাবি।
তার ভাষায়, এ ধরনের সংঘাত ২০২৮ সালের মধ্যে মানবজাতির মাথার ওপর ‘পরমাণু ড্যামোক্লিসের তলোয়ার’ ঝুলিয়ে দেবে। অর্থাৎ, যেকোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয়।

২৭ বছরের বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা

হোগের আরেকটি ভয়াবহ পূর্বাভাস হলো, বিশ্বজুড়ে ২৭ বছর ধরে চলতে পারে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ। তার দাবি, এই সংঘাত মানবসভ্যতাকে দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার যুগে ঠেলে দিতে পারে।
নস্ত্রাদামুসের কয়েক শতাব্দী পুরোনো লেখা বিশ্লেষণ করে হোগ ‘মাবুস’ নামে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীতে এই ব্যক্তিকে তৃতীয় ‘অ্যান্টিক্রাইস্ট’ বা খ্রিষ্টবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নস্ত্রাদামুসের কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর অনুবাদ তুলে ধরে হোগ বলেন, ‘তৃতীয় অ্যান্টিক্রাইস্ট খুব শিগগিরই ধ্বংস হবে, তার যুদ্ধ চলবে ২৭ বছর। ধর্মদ্রোহীরা নিহত হবে, কেউ বন্দি হবে, কেউ নির্বাসিত হবে। মানুষের রক্তে ভেসে যাবে দেহ, পানি রক্তে লাল হবে, আর শিলাবৃষ্টি পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করবে।’
হোগের দাবি, ‘মাবুস’ নামটির অক্ষর বিন্যাস বিশ্লেষণ করে তিনি এর সঙ্গে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) মিল খুঁজে পেয়েছেন। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যু হতে পারে গুপ্তহত্যা, প্রাসাদ অভ্যুত্থান কিংবা বিস্ফোরণে কোনো বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায়।
হোগের দাবি, এমন মৃত্যু ২৭ বছরব্যাপী এক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। সেই যুদ্ধ পরমাণু সংঘাতে রূপ নেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার তেল, হিলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসশিল্প ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো, তেল পাইপলাইন ও গ্যাসশিল্পে বিপর্যয় নেমে এলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এর পরিণতিতে মানুষ ও প্রাণিজগতকে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে খাদ্য ও পানির সংকট এবং চরম বিশৃঙ্খলার মুখে পড়তে হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এতে এমন এক জ্বালানি বিপর্যয় সৃষ্টি হবে, যা মানুষের পাশাপাশি প্রাণিজগতের জীবনব্যবস্থাকেও তছনছ করে দেবে। এমবিএস বা মাবুস নিহত হওয়ার পরও ২৭ বছর ধরে এই পরিস্থিতির অবসান হবে না।’

ইউক্রেন ঘিরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা

ইউরোপে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকেও বড় সংঘাতের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখছেন হোগ। তার পূর্বাভাস, ইউক্রেনে সরাসরি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার ভয়াবহ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়তে পারে।
তার দাবি, ইউরোপের অস্ত্র কারখানাগুলো রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর জবাবে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হলে আঞ্চলিক সংঘাত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতন?

হোগের পূর্বাভাসের শেষ অংশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যের অবসানের দাবি। তার মতে, পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় ৫০০ বছরের আধিপত্যের যে যুগ, তার পতন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যিক ক্ষমতা ভেঙে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ২৪ মাসের একটি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় চক্রকে তিনি ‘শোফার সাইলেন্স’ নামে অভিহিত করেছেন।
হোগের দাবি, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক অপরিবর্তনীয় পতনের মুখে পড়বে, যার প্রভাব দেশটির অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আমূল বদলে দেবে।

তার পূর্বাভাসে রয়েছে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠা, ডিজেলের তীব্র সংকট এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ ও ট্রাম্পের বিভাজনমূলক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক প্রভাব হারানোর দিকে ঠেলে দেবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এমনকি ২০২৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার ২৭তম বার্ষিকীকে তিনি মার্কিন আধিপত্যের পতনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তার ভাষায়, ওই দিন নাগাদ ‘সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার পতন’ ঘটে যেতে পারে। ভয়াবহ এসব পূর্বাভাসকে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চান বলে দাবি করেছেন হোগ। তার আশা, এসব সতর্কতা মানুষকে সংঘাত ও সহিংসতার বদলে শান্তির পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করবে।