পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ মাদ্রাসায় আগুন, পরিচালক গ্রেপ্তার

পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ মাদ্রাসায় আগুন, পরিচালক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

পাবনায় আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরিচালক আবু ইউসুফকে (৫৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। শুক্রবার ভোরে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকার নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন আবু ইউসুফ। ভবনের একটি কক্ষে ছাত্রীরা থাকতেন। তাদের সঙ্গে নারী শিক্ষকও থাকতেন। পাশের একটি কক্ষে থাকতেন মাদ্রাসার পরিচালক।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কক্ষ থেকে বের হয় চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী। এ সময় তাকে টেনেহিঁচড়ে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন পরিচালক আবু ইউসুফ। পাশের আরেক ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে দ্রুত বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডাকতে থাকে। পরে লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পরিচালককে আটক করেন। খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে তাঁরা মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। ভবনে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে এর আগেও ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের মৌখিক অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি।

আটক আবু ইউসুফ পাবনার আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুবের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা শফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে শুক্রবার দুপুরেও মাদ্রাসা ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।