ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণ অবরোধ’ কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাঁচ ইসরাইলি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর শুক্রবার দিনের পরবর্তী সময়ে এই অবরোধ কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দেয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনের হেবরন শহর অবিলম্বে ঘিরে ফেলার নির্দেশও দিয়েছেন।
এর আগে হেবরনের কাছে ইসরাইলি বসতি কিরিয়াত আরবার কাছে দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি সেনারা। ইসরাইলি উদ্ধারকারী সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম ও সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ফিলিস্তিনি গুলি চালিয়ে পাঁচ ইসরাইলিকে আহত করেছিলেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, ওই দুই ফিলিস্তিনি গাড়িতে করে কিরিয়াত আরবার কাছে একটি সড়ক সংযোগস্থলে এসে গুলি চালান। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
সামরিক বাহিনীর দাবি, পরে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে গোলাগুলিতে ওই দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। সম্ভাব্য অন্য সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চলার সময় এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরজুড়ে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। সেখানে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন। এসব হামলার কারণে স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে বসতি স্থাপনকারীদের ২ হাজার ৬০টি হামলায় ফিলিস্তিনিরা হতাহত হয়েছেন অথবা তাঁদের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
