নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের যেকোনো একসময় উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। এদিকে ইতিপূর্বেও শহীদ মিনারটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। তবে গত রাতে বাকি দুটি পিলারও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের একজন শহীদ মিনারটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা থানা-পুলিশকে খবর দেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ২০১৬ সালে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়।
জানা যায়, বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয়রা ফুটবল ও ক্রিকেট খেলেন। ইট দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনারটির ভেতরে রড ছিল না বলে তাদের দাবি। এর আগে একটি স্তম্ভে ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং সেটি আংশিক ভাঙা অবস্থায় ছিল বলেও জানান তারা। এ কারণে স্থাপনাটি দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে থাকতে পারে বলে কারও ধারণা। আবার কেউ কেউ এটিকে সরাসরি ভাঙচুরের ঘটনা বলে দাবি করছেন। খবর পেয়ে বদলগাছী থানার ওসি হাবিবুর রহমান ও এসআই কামরুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ বিষয়ে এসআই কামরুল জানান, ঘটনাটি সরজমিনে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ভাঙচুর বলে মনে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা রানী জানান, শহীদ মিনারটি আগে থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। রাতের আঁধারে কে বা কারা শহীদ মিনারটি ভেঙেছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীর রাতের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালনে শিথিলতা আনা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা রাতে দায়িত্ব পালন করেন না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বদলগাছী থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
