ডার্ক ফ্লিট কিংবা রুশ ডিজেল, তেলের দাম কমানোর কোনো ‘সিলভার বুলেট’ নেই

সিএনএনের বিশ্লেষণ

ডার্ক ফ্লিট কিংবা রুশ ডিজেল, তেলের দাম কমানোর কোনো ‘সিলভার বুলেট’ নেই

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটাররা  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ওপর তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নির্বাচন শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প কৃষকদের জন্য ৯৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকার (৮০০ কোটি ডলার) সহায়তা, রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানি এবং ডার্ক ফ্লিট বা নিষিদ্ধ তেলবাহী জাহাজগুলো ব্যবহারের মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সকল পদক্ষেপ কোনো কাজে আসছে না। তারা আরো বলেন, ট্রাম্পের হাতে জ্বালানির দাম কমানোর কোনো ‘সিলভার বুলেট’ (জাদুকরী সমাধান) নেই।

বাজারে তেলের দাম কমার বদলে আরো বেড়ে চলছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১১০ ডলার ছুঁয়েছে। ইরানের সঙ্গে সরাসরি বড় সংঘাতের তীব্রতা সাময়িক কমলেও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও নিরাপদে চলতে পারছে না। সামুদ্রিক মাইনে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় তেলের দাম কমছে না। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের (পেট্রোল) দাম ৪৯৩ টাকার (৪ ডলার) কাছাকাছি এবং ডিজেলের দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় কৃষক, ট্রাকচালক ও সাধারণ চালকরা চরম হতাশ।

নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার এই বাড়তি খরচ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাড়তি খরচ ইরান যুদ্ধের কারণে আরও তীব্রভাবে বেড়েছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের মতে, প্রশাসন কিছুটা আতঙ্কিত হয়েই তড়িঘড়ি করে এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে তারা ডিজেলের দাম রাতারাতি কমাতে পারবে না, তাই ভোটারদের সন্তুষ্ট করার শেষ চেষ্টা করছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ঘোষিত এই বিপুল তহবিলের লক্ষ্য হলো বাজার সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির সময় তাদের স্বস্তি দেয়া। ইরান যুদ্ধের আগে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৪৬৪ টাকা (৩.৭৬ ডলার) থাকলেও সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তা বেড়ে রেকর্ড ৮০৬ টাকায় (৬.৫৩ ডলার) দাঁড়ায়। কানসাসের কৃষকদের গত বছর ডিজেলের পেছনে গড়ে ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা (৩১ হাজার ডলার) খরচ করতে হয়েছিল, যা এ বছর দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সারের দামও মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এর আগে গত বছরও ফার্মার ব্রিজ অ্যাসিসটেন্স প্রোগ্রামের অধীনে কৃষকদের ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা (১,২০০ কোটি ডলার) সহায়তা দেয়া হয়েছিল।

রাশিয়া থেকে প্রায় ২২ লাখ ব্যারেল ডিজেল আমদানির পরিকল্পনাকে বিশ্লেষকরা একটি সাময়িক উপশম হিসেবে দেখছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহার করে। ফলে আমদানি করা ডিজেল দিয়ে একদিনের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে না।

জ্বালানি পরিবহন খরচ কমাতে ডার্ক ফ্লিট বা নিষিদ্ধ জাহাজগুলো ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। আইনি জটিলতা এবং পুরোনো এই জাহাজগুলো মেরামত করে ব্যবহার করা বেশ সময়সাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা। তাই ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যতই চটকদার সিদ্ধান্ত নিক না কেন তা তেলের বাজারে খুব কমই প্রভাব ফেলছে।