জ্বালানি সাশ্রয়ে ইসি’র নতুন উদ্যোগ

৫০০ মাঠ কার্যালয়ে বসছে সোলার প্যানেল

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রায় ৫০০টি মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের সব উপজেলা নির্বাচন অফিসের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্তে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে ইসি সচিবালয়। বুধবার নির্বাচন কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে ইসি সচিব আখতার আহমেদ কমিশনের সংস্থাপন শাখাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইসি সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে চলমান ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। যেসব কার্যালয়ে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ চলছে, সেসব প্রকল্পের অনাপত্তিপত্রে প্রয়োজনীয় বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমেও শৃঙ্খলা আনতে চায় কমিশন। এ লক্ষ্যে কার্যালয়গুলোতে ব্যবহৃত মালামাল ও সরঞ্জামের হালনাগাদ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসন্ন সমন্বয় সভার আগে এসব তথ্য প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আগামী ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ভোটার নিবন্ধন ফরম-২ হালনাগাদকরণের প্রস্তাব প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে কী পরিমাণ মালামাল মজুত রয়েছে এবং কোন সরঞ্জাম সচল বা অচল, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে পরবর্তী সমন্বয় সভায় জমা দিতে হবে। এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সচিবালয়ের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) চালু থাকা দুই মাস মেয়াদি বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ (এসএফটিসি) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর পরিবর্তে আগের নিয়মে ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে (এফটিসি) অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করতে চায় কমিশন। এ বিষয়ে বিপিএটিসি’র সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়, দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।