গভীর রাতে মহাসড়ক থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করলো পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

বাবা-মাকে ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে পায়ে হেঁটে খালার বাড়ি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ৭ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশু। কিন্তু চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই দিক হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা। পরে পুলিশের টহল দল তাদের উদ্ধার করে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ভোরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার উত্তর মাসদাইর এলাকার বাসা থেকে বের হয় নূর (৭) ও তানহা (১২) নামের দুই শিশু। পরে রাত ১২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় তাদের কান্না করতে দেখে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি টহল দল। ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম জানান, লিংক রোডে দুই শিশুর কান্নার শব্দ শুনে তাদের কাছে যান। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের নাম ও বাবার নাম বলতে পারলেও অন্য কোনো তথ্য দিতে পারেনি। শুধু যেদিক থেকে এসেছে, তা জানায়। কোথায় যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছে জানতে চাইলে তানহা জানায়, নূর তার চাচাতো বোন। তাকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে কুমিল্লায় খালার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বাসা থেকে বের হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসিকে জানান এসআই শামীম।

পরে ওসি’র নির্দেশনায় শিশুদের দেখানো পথ ধরে তাদের বাসা খুঁজতে বের হন তিনি। ফতুল্লার সস্তাপুর, কায়েমপুর ও ইসদাইরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার হেঁটে খোঁজাখুঁজি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে রাত ৪টার দিকে তানহা তার স্কুলের নাম জানায়। এরপর তাকে ফতুল্লার উত্তর মাসদাইর এলাকার গ্লোরি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে নিয়ে গেলে সে নিজের বাসা চিনিয়ে দেয়। সেলিম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন শিশু দু’টির পরিবারের সদস্যরা। এসআই শামীম জানান, শিশুদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাদের বাবা-মা গভীর ঘুমে রয়েছেন। ঘুম থেকে ডেকে সন্তানদের কথা জানালে তারা ঘরে গিয়ে দেখেন, কোলবালিশের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও সন্তানরা সেখানে নেই। সন্তানদের না পেয়ে মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘুম থেকে উঠে বাড়িতে ভিড় করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দুই শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়। পুলিশের তৎপরতায় গভীর রাতের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে। সন্তানদের নিরাপদে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরে আসে পরিবারে।