রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর শেষে কয়েক লাখ টাকার পণ্য ও সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন ওই কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে’- এই কথা বলে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির। হামলার পর থেকে আতঙ্কে ভুগছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন।
এ জে আর গ্রুপের কর্মচারীরা জানান, সন্ধ্যায় শতাধিক ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। প্রথমে তারা কার্যালয়ের আশপাশের বাড়ির সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। পরে সন্ত্রাসীদের একটি দল দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা মুখোশ ও হেলমেট পরা ছিল। পরে গুদামে ঢুকে ক্যামেরা ও ডিভিআর (ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র) খুলে নেয়। যাওয়ার আগে কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ লুট করে নেয়। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে চাকরি করছি। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। বর্তমানে সব কর্মচারী আতঙ্কে আছেন। কাজে আসতে ভয় পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয় এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গুদাম ও কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এতদিন শিকদার গ্রুপকে ভাড়া দিয়ে আসছিল তারা। তবে, হামলাকারীরা দাবি করে শিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে। ভাড়া না দিলে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না বলেও নিরাপত্তা-কর্মীদের হুমকি দেয় তারা।
জানা যায়, কার্যালয়টি থেকে প্রতিদিন ৪০০ গাড়ি সারা দেশে পণ্য আনা-নেয়ার কাজ করে। হামলার পর তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের আশ্বাসে সবকিছু স্বাভাবিক হয়। এ প্রসঙ্গে ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম করে একটি দল কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। ঘটনাটি চাঁদাবাজি নিয়ে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ডাকাতির মামলা দিতে চাচ্ছে। তাদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে মামলা করতে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই এলাকায় কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেয়া হবে না।
