সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি

ঢাকেশ্বরী মণ্ডপ পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি

ফন্ট সাইজ:

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ ঢাকার বাইরের পূজামণ্ডপ দেখতে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন জেলায় যাচ্ছেন। সকালে প্রথম যাবেন রংপুর। এরপর রাজশাহী ও চট্টগ্রামে। এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ দেখতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোতে পূজারিদের শুভেচ্ছা জানাবেন, তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন।

চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষ করে রাতেই প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ফিরবেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব। সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে এই তিন জেলায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী গত রোববার রাতে ঢাকার মহাখালী ও বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন।

সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি
সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার কথাও বলেন তিনি। গতকাল রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’ ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ধর্মটা হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেয়া। আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখবো। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনো জিজ্ঞেসও করিনি।

দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশটির যদি পরিবর্তন ঘটে, এ দেশের মানুষের যদি পরিবর্তন ঘটে, তাহলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হবো। আর যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনো মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য রাখেন।