গহীন জঙ্গলঘেরা এক জনপদ। এখনো যানবাহন যায় না ওই এলাকায়। সিলেটের ডোনা সীমান্ত। ওই সীমান্তে ভারত পাড়ি দেয়ার সময় গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিচারপতি মানিক। এর আগে সিলেটের পুলিশ ফাঁড়িতে যুবক রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্ত হওয়া সাব-ইন্সপেক্টর আকবরকে
সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। স্থানীয়দের মতে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চোরাচালানের হেডকোয়ার্টার ওই এলাকা। চোরাচালান চক্রের নিরাপদ স্থানও এটি। আলোচিত এ সীমান্তে এখন গুলিতে বাংলাদেশীরা মারা যাচ্ছে। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে দু’টি ঘটনা ঘটেছে। আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকায়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে গুলি কারা করছে? ঘটনা কখনো সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ও ভারতের অভ্যন্তরে।
বিএসএফ না ভারতীয় খাসিয়ার গুলি- সেটি নিশ্চিত নয় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএসএফ। দু’টি ঘটনায় স্বীকার বা অস্বীকার কিছুই করেনি। তাহলে ঘটনাকারী কী ভারতীয় খাসিয়ারা- সে দাবিটি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- ১০ই অক্টোবর দিনের বেলা বাড়ি থেকে বের হয়ে ফিরেননি কানাইঘাটের সোনারখেওড় গ্রামের শাহীন আহমদ। পরের দিন শাহীনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনার ৫ দিনের মাথায় ১৫ই অক্টোবর একই সীমান্তের পার্শ্ববর্তী মিকিরপাড়া এলাকার জিরো পয়েন্টের কাছে এরালীগুল গ্রামের যুবক খালেদ আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর বিজিবি, পুলিশকে জানালেও তাদের পক্ষ থেকে প্রথমে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পরদিন পরিবারের লোকজন খালেদের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে বাড়ি থেকে খালেদের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন- প্রথম ঘটনায় নিহত শাহীন আহমদ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি স্থানে ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়াদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। কখনো কখনো খাসিয়াদের ওখানে কাজও করতেন। ঘটনার দিন শাহীন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে খাসিয়াদের ওখানে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়। পরে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত খালেদ আহমদ চোরাকারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানান— তারা। সোমবার বিকালে ডোনা সীমান্ত ফাঁড়ি বিজিবি’র টুআইসি ও সুবেদার আব্দুল জলিল জানিয়েছেন- কারা গুলি করছে সে বিষয়ে তারা জানেন না। তবে দু’টি ঘটনার পর বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিএসএফ’র কাছে লিখিতভাবে পত্র দেয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ দু’টি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার কথা জানিয়েছেন কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- দু’টি লাশই গুলিবিদ্ধ। তবে গুলি কারা করেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহত শাহীন ও খালেদ আহমদের মরদেহ বাংলাদেশে নয়, ভারতের অভ্যন্তরে পাওয়া গেছে। লাশ বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর পুলিশ সেটি উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। ডোনা সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব-ইউনিয়নের মেম্বার নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন- দু’টি হত্যাকাণ্ডই ভারতীয় সশস্ত্র খাসিয়ারা ঘটিয়েছে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা পূর্ব-শত্রুতার জের ধরে তারা গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। শেষে মারা যাওয়া খালেদের মরদেহ সীমান্তের দেড় কিলোমিটার ভেতরে গুলি করা হয়। ওখান থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান— তিনি। নাজিম জানিয়েছেন- বারবারই বাংলাদেশের বিজিবি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অবৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশ না করতে। সেটি অনেকেই শোনেন না। এ কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনাগুলো ঘটছে।
