পঞ্চগড়ে যেভাবে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

পঞ্চগড়ে যেভাবে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

ফন্ট সাইজ:

স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় পঞ্চগড় জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি বাড়লেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পরিপক্বতা বা জ্ঞানের পরিধি নিয়ে বেড়ে উঠছে না। শিক্ষক স্বল্পতা, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবের পাশাপাশি দায়িত্বরতদের পাঠদানে দায়িত্বহীনতা, কঠিন বিষয়, কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়াসহ ঝরে পড়ছে। পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার ৬৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি শিশুকে ৫ বছরে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কী কী শেখানো হবে, কীভাবে শেখানো হবে ও কতোটুকু শিখলো তা কীভাবে যাচাই করা হবে তার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির ইংলিশ কঠিন মনে করছেন শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়নে পরীক্ষায় গ্রামার জাতীয় প্রশ্ন করা হলেও শিক্ষার্থীদের গ্রামার বই নেই। বিদ্যালয়গুলোতে অনুশীলনও নেই। অনেক বিদ্যালয়ে ইংলিশ বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংলিশ ভীতি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আর একান্তই যারা পড়ছে তাদের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থীই নোট বা গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া বাংলা পড়ে বুঝতে পারা, ইংরেজিতে কথা বলা, যোগ বিয়োগ দিয়ে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান করা, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্য হলেও কোনোটিই হচ্ছে না। কেউ কেউ বলেন, শিক্ষকরা না বুঝলে শিক্ষার্থীদের কী পড়াবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৯৯ জন প্রধান শিক্ষক নেই। ৩৭৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। এ শূন্যতার কারণে যেসব শিক্ষক রয়েছেন তাদেরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে বিরক্তিকর মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ২১২ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু যোগদান করেছেন ১৯৩ জন। সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী অনুযায়ী আরও বিদ্যালয়ের প্রয়োজন। আমাদের বিদ্যালয়ে একটি ক্লাসে ৪০ জনের স্থলে বসে ৭৮ জন। এতে শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন তার দিকে তারা মনোযোগ দিতে পারছে না। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আসতে হয় তাই আসে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার হার কমানোর লক্ষ্যে তেঁতুলিয়া বাদে ৪টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ৪টি উপজেলার ৫৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৮ হাজার ৬২৬ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীদেরকে ডিম, কলা ও বনরুটি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুট দেয়া হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, শিক্ষকরা যে পাঠ্য বই বোঝে না বা পড়াতে পারে না তা নয়। মূল সমস্যা হলো— আন্তরিকতা ও দায়িত্বহীনতা। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে পড়ে না। তাদের প্রাইভেট পড়ারও সুযোগ নেই। তাই আমি বিদ্যালয়ে ভালোভাবে পড়ানোর জন্য সব সময় শিক্ষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছি। কিন্তু অনেক শিক্ষক দায়িত্ববান হচ্ছে না। এ অবস্থার কীভাবে উত্তরণ করা যায় তা নিয়ে চিন্তায় আছি।