ইউনাইটেডের দুঃসময় কবে কাটবে

ইউনাইটেডের দুঃসময় কবে কাটবে

ফন্ট সাইজ:

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স যেন এক গভীর খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে। দলের এমন হতশ্রী দশা দেখে রেড ডেভিলদের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল সোজাসাপ্টা ভাষায় কোচ মাইকেল ক্যারিককে কড়া বার্তা দিয়েছেন। মৌসুমের শুরুতেই চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দৌড় থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা এবং টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন থাকার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড ক্লাবটির ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এল রোড স্টেডিয়ামে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ ড্র করার পর ইউনাইটেডের অবস্থান এখন পয়েন্ট টেবিলের ১৩ নম্বরে। প্রথম ৭ ম্যাচে মাত্র ৭ পয়েন্ট অর্জন এবং লীগের শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে জয়খরা মাইকেল ক্যারিকের স্থায়ী কোচের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ম্যাচ শেষে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে ক্যারিক বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকের দিনটি আমাদের জন্য নতুন একটি শুরু হিসেবে কাজ করেছে। আমরা এই মুহূর্তে কোথায় আছি তা মেনে নিয়েছি এবং এ থেকে উত্তরণে কাজ করছি। আমি জানি, দূর থেকে পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না, তবে এই বাজে ফর্ম কাটিয়ে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো। এ নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।’

তবে ক্যারিকের এমন আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন ফুটবল বিশ্লেষক গ্যারি নেভিল। ‘দ্য গ্যারি নেভিল পডকাস্ট’-এ তিনি দলের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্লাবটিতে এখন প্রত্যাশার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। তবে এই ড্র হয়তো মাইকেল ক্যারিকের জন্য প্রিমিয়ার লীগের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার মতো এবং সেখান থেকে আত্মবিশ্বাস খোঁজার সুযোগ হতে পারে। হয়তো মাতেউস কুনহা, মার্কাস রাশফোর্ডদের বদলি হিসেবে নামিয়ে এবং রক্ষণ জমাট রেখেই আমাদের নতুন কৌশল খুঁজতে হবে।’

চলতি মৌসুমে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে থাকা নিয়ে ক্লাবটির অর্থনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন নেভিল। তার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ হাতছাড়া হওয়া মানে ক্লাবের জন্য বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি এবং ইউরোপের সেরা মঞ্চে খেলতে না পারার গ্লানি। নেভিল বলেন, ‘চতুর্থ স্থান অর্জন করা মানে বোনাস, পঞ্চম স্থান মানে লক্ষ্য অর্জন, আর ষষ্ঠ স্থান মানে বড় ব্যর্থতা। তবে তাদের শীর্ষ পাঁচের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি তারা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ মিস করে, তবে এটি একটি গোলকধাঁধায় পরিণত হবে। তখন ভালো খেলোয়াড়রা আসতে চাইবে না, আর্থিক ক্ষতি হবে এবং বৃহস্পতিবারের ইউরোপা লীগে খেলতে হবে।’

আসন্ন ম্যাচগুলোতে বোর্নমাউথ ও চেলসির মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামতে হবে ইউনাইটেডকে। ভক্ত-সমর্থকদের উদ্বেগ কাটাতে হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের ম্যাচগুলোই হবে ক্যারিকের কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।