কম্বোডিয়ায় পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের ফেরানো ও পুনর্বাসন চায় অনির্বাণ

ফন্ট সাইজ:

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে পড়া এবং মানবপাচার, প্রতারণা ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়া ১ হাজার ৮০০-এর বেশি বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন।
রোববার সংগঠনটির সভাপতি আল আমিন নয়নের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও সরকারি ছাড়পত্র নিয়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেলেও প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকে প্রতারণামূলক নিয়োগ, জবরদস্তি, ভয়ভীতি, চলাচলে বাধা, পাসপোর্ট আটকে রাখা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তির বিনিময়ে অর্থ দাবির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ, নাগরিক সুরক্ষা ও নিয়োগব্যবস্থার জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, কম্বোডিয়ায় ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণজনিত জরিমানা মওকুফের সুযোগ থাকলেও আর্থিক সংকট, বিমান টিকিটের উচ্চমূল্য, পাসপোর্ট ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।
অনির্বাণের তথ্য অনুযায়ী, জরিমানা মওকুফের আওতায় দেশে ফেরার জন্য আবেদনকারী ১ হাজার ৭৯৭ জনের তালিকা কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে বলে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে না পারা আরও ৪০০-এর বেশি বাংলাদেশি একই সংকটে রয়েছেন।
সংগঠনটি ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর সময়সীমার আগেই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহে সহায়তা ও জরুরি কূটনৈতিক সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য বিকল্প প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, বাধ্যতামূলক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য শোষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অনির্বাণের মতে, পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণে অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের শুধু অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করলে মানবপাচারের বাস্তবতা উপেক্ষিত হতে পারে। তাই মানবপাচার-সংবেদনশীল তদন্ত, যথাযথ আইনি মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শাস্তি নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন হিসেবে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, প্রয়োজন নিরূপণ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রেফারেল এবং পুনর্বাসন পর্যবেক্ষণে তারা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।