বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ

দুদকের ব্রিফিং

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি নিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সিভিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সচিব সাইদুর রহমান খান।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
সাইদুর রহমান খান বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভে তিনি(পুতুল) যে সিভ দাখিল করেন, সেখানে মিথ্যা তথ্য দেয়ার প্রেক্ষিতে দুদকে মামলা হয়। গত বছরের ২০ মার্চ মামলাটি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আসামি সায়মা ওয়াজেদ, যিনি সূচনা ফাউন্ডেশানের চেয়ারপার্সন অর্থাৎ ওই প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে নিবন্ধন নেন।’

সাইদুর রহমান খান বলেন, সায়মা ওয়াজেদ ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ভেভেলপমেন্ট ডিজওর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পদে ওই প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে সিভি দাখিল করেন। সিভিতে প্রতারণামূলকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, যেটি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়—সেখানে অনারারি স্পেশালিস্ট এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করার মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়েছিলেন। এতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে অপরাধমূলক অসদাচারণ করেন পুতুল।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোনো নথি না খুলে, কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই করার অবকাশ না দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে জাতিসংঘের বাংলাদেশে স্থায়ী মিশন কার্যালয়ে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বসংস্থার সদর দফতর জেনেভায় দাখিল করেন। ওই তথ্য ব্যবহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। তার এমন কর্মকাণ্ড- দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় দুদক কর্তৃক চাজশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।