ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সৎ মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেয়ে কুপিয়ে স্ত্রীর ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোয়ালকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওবায়দুল (৪৫) কর্মসূত্রে ভালুকায় থাকতেন। সেখানে প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন করে সেলিনা নামের এক পোশাক শ্রমিককে বিয়ে করেন। সেলিনার আগের সংসারে ১৪ বছরের একটি মেয়ে ছিল। সেলিনা কাজের জন্য বাইরে গেলে সুযোগ নিয়ে ওবায়দুল তার সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সেলিনা বাদী হয়ে ভালুকা থানায় মামলা করলে পুলিশ ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে জীবিকার তাগিদে সেলিনা সৌদি আরবে চলে যান। প্রায় আট মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। এদিকে, প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান ওবায়দুল। অভিযোগ রয়েছে, দেশে ফেরার পর ওবায়দুল সেলিনাকে বুঝিয়ে ধর্ষণ মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে রাজি করান। এ উদ্দেশ্যে গত ১৫ই অক্টোবর তারা ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যান।
তবে ওই দিন আদালতের কার্যক্রম না থাকায় ওবায়দুল সেলিনাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওবায়দুল ধারালো দা দিয়ে সেলিনাকে কুপিয়ে তার ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করেন। পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সেলিনাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তারাকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে তার ভাই শহীদ মিয়া বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
