চুয়েট সচলে ভিসি’র সভা, ফল শূন্য

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা কাটছে না। গত ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেও ক্লাস-পরীক্ষা চালুর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে পারেননি উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সভায় সিন্ডিকেটের ১৫ সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ছয়জন। উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য সভায় যোগ দেননি। সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

সিন্ডিকেটের ১৭টি সদস্যপদের মধ্যে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য থাকায় বর্তমানে সদস্য ১৫ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন সভায় অংশ নেন, বাকি নয়জন অনুপস্থিত ছিলেন। সভায় উপাচার্য ছাড়া অংশ নেয়া পাঁচজন হলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান এবং প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, সভায় চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান ছুটি ও পারিবারিক কাজের কারণে সভায় যোগ দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।

সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় এবং সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সুপারিশ পাঠানো। সিন্ডিকেটের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের সভার পরও ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কার্যকর সমঝোতা না হওয়ায় সংকট কখন কাটবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। গত ২১শে সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়। এ নিয়োগের প্রতিবাদে ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও আন্দোলনে যোগ দেন।

গত ১২ই অক্টোবর উপাচার্য ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ১৩ই অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়। ওই রাতেই তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। সেখান থেকেই শুক্রবার অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা পরিচালনা করেন। এদিকে সিন্ডিকেটের সচিবের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, তিনি আগেই রেজিস্ট্রার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে সিন্ডিকেটের সচিব হিসেবেও তিনি আর দায়িত্বে নেই বলে জানিয়েছেন।