আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নেত্রকোণায় মানববন্ধন সমাবেশ হয়েছে। শনিবার মোক্তারপাড়া এলাকায় নেত্রকোণা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টার দিকে এবং বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার প্রেস ক্লাব মোড় এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। নেত্রকোণা প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী। উপস্থাপনা করেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম। আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ভোরের কাগজের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সঞ্জয় সরকার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক প্রীতম সোহাগ, স্টার নিউজের প্রতিনিধি আজাদ ইমরান শরিফ, জি টিভির প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া সোহেল, সাংবাদিক আবুল কালাম প্রমুখ।

দুর্গাপুরের প্রেস ক্লাবের কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক মো. মোহন মিয়া। উপস্থাপনা করেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ। এ সময় সাংবাদিক আলিফ হত্যা প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও নির্মলেন্দু সরকার, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার কামাল হোসাইন, প্রথম আলোর নেত্রকোণা প্রতিনিধি পল্লব চক্রবর্তী, আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি সাইফুল আরিফ জুয়েল, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দ্রুতই সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। হত্যার পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিক হত্যায় যেন বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি না হয় তা সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে ।
দুর্গাপুরে মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন অংশগ্রহণকারীরা। এতে কিছুক্ষণের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এদিকে আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আলিফের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার সাকের আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ কলমাকান্দা উপজেলার ডিটপুর সুনই গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, নিহতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ৬টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৫টি গুলি তার শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। আরেকটি গুলি তার পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। তিনটি গুলির একটি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

আরেকটি মাথার উপরের অংশের চামড়া এবং বাকি একটি গুলি ডান কানের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়। গুলির ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, শরীরে গুলির প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের এলাকায় তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি চা দোকানের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রোটোকল টেলিভশন) রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেখানে সীমান্ত চোরাচালান, মাদক, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট ও তথ্য প্রকাশ করতেন।