চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক জুড়ে রংয়ের নতুন ছোঁয়া। কোথাও সড়ক বিভাজকে লাগানো হচ্ছে নতুন রং, কোথাও চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সড়ক সংস্কার। পুরনো স্থাপনাগুলোও রং-তুলির আঁচড়ে ফিরে পাচ্ছে নতুন রূপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০শে অক্টোবরের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বন্দরনগরীকে সাজিয়ে তোলার এই কর্মযজ্ঞ চলছে জোরেশোরে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফর ও শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থাও। শনিবার সকালে নগরীর কাজীর দেউড়ি, লাভ লেইন, জামালখান, চেরাগী পাহাড় মোড় ও কদম মোবারক সড়ক এলাকায় দেখা যায়— বিভিন্ন স্থাপনায় রং করার কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা। কোথাও সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ডে নতুন রং লাগানো হচ্ছে, কোথাও চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। রংমিস্ত্রি তারেকুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন। তাকে স্বাগত জানাতে তারা আন্তরিকতার সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনায় রং করছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী এসে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী দেখতে পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করেছে। সড়ক বিভাজকে রং করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার, বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আগামী মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সফরের তথ্য জানানো হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৌঁছে বিশ্রাম নেবেন তিনি।
পরে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে সার্কিট হাউজ থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাত সাড়ে ৮টায় বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা রয়েছে তার। এটি চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর। এর আগে গত ৯ই আগস্ট তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন। শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগর জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাকে বরণ করে নিতে চট্টগ্রাম প্রস্তুত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তাকে সাদর সম্ভাষণ জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মেয়র বলেন, ২০শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। পরে তিনি জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। শাহাদাত হোসেন বলেন, বিএনপি সব সময় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। এ সময় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমীতে প্রধানমন্ত্রী সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অপেক্ষা করছেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল। প্রধানমন্ত্রীর সফর ও পূজামণ্ডপে তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও জেলা প্রশাসনের একাধিক দল জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে। এদিকে বিএনপি’র বিভাগীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও কয়েক দফায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল কাজ করছে। জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে এসআরবি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের সব পূজামণ্ডপে ভক্তরা যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২০শে অক্টোবরের সফরকে নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করে তুলতে প্রস্তুত হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
