উচ্চশিক্ষার জন্য একসঙ্গে অনেক শিক্ষক বিদেশে গবেষণার উদ্দেশ্যে শিক্ষাছুটিতে থাকায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে তীব্র শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো বিভাগে মোট শিক্ষকের একটি বড় অংশ (অর্ধেকের বেশি) দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করায় সীমিত জনবল নিয়ে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর ওপর প্রশাসনিক দায়িত্ব, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং কিছু শিক্ষকের ক্লাসে অনুপস্থিতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ৪২৮ জন শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে ১২৮ জন শিক্ষক বিভিন্ন ছুটিতে রয়েছেন, যা মোট শিক্ষকের ৩০.১৪ শতাংশ। ব্যবসায় প্রশাসন (ডিবিএ) বিভাগে ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন, অর্থনীতিতে ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন, মাইক্রোবায়োলজিতে ২৩ জনের মধ্যে ১১ জন, বিজিই-তে ২০ জনের মধ্যে ৮ জন এবং বিএমবি-তে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। শিক্ষাছুটি ও সাধারণ ছুটির বাইরেও শিক্ষক সংকটের পেছনে অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে অফলাইন কার্যক্রমে অংশ না নেয়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স (ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুজ্জামান (রিমন), রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়া। অন্যদিকে ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) প্রো-ভিসি এবং ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (লবিপ্রবি) ভিসি পদে প্রেষণে নিযুক্ত রয়েছেন। ব্যবসায় প্রশাসন (ডিবিএ) বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষার্থী বলেন, কিছু বিষয়ে মাত্র একজন শিক্ষককে একাধিক ব্যাচে পাঠদান করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ ও সিলেবাস সম্পন্ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘমেয়াদি ছুটির কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রতিটি বিভাগে ৬ থেকে ৭টি ব্যাচ সচল থাকায় সীমিত শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকটে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাছুটি প্রসঙ্গে ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে ইউজিসি’র সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শিক্ষক নিয়োগ কিংবা প্রয়োজনে ইউজিসি’র অনুমোদনক্রমে গেস্ট শিক্ষক বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে শূন্যতা পূরণ করা হবে।
