বিশ্বস্ত সাবেক এক কর্মচারীকে দেখতে কিশোরগঞ্জে এসেছেন কাতারের মিউজিয়াম অফ ইসলামিক আর্টসের ডেপুটি ডিরেক্টর ড্যানিয়েল ব্রাউন। গত ১৫ই অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ান এই নাগরিক বাংলাদেশে এসে সরাসরি কিশোরগঞ্জে তার সাবেক কর্মচারী তোফাজ্জল হোসেন উজ্জ্বলের বাড়িতে যান। উজ্জ্বল কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের উত্তর মহিনন্দ নদীর পাড় এলাকার সংবাদপত্র হকার নজরুল ইসলামের ছেলে। হাজার মাইল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে ভিনদেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাড়িতে আসায় আনন্দের বান বয়ে যায় উজ্জ্বলদের বাড়িতে। নানারকমে দেশীয় খাবারে আপ্যায়ন করানোর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও উল্লেখযোগ্য স্থান ব্রাউনকে ঘুরে দেখাচ্ছেন উজ্জ্বল। ব্রাউন সপ্তাহখানেক এখানে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন উজ্জ্বল। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় উজ্জ্বল। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২১ সালে তিনি কাতারে পাড়ি জমান।
সেখানকার মিউজিয়াম অফ ইসলামিক আর্টসে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। সেখানেই পরিচয় হয় ব্রাউনের সঙ্গে। উজ্জ্বলের কাজের প্রতি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম মুগ্ধ করে ব্রাউনকে। কিন্তু এর মাঝেই ঘটে বিপত্তি। মাস দু’য়েক আগে আকামা সংক্রান্ত জটিলতায় দেশে ফিরে আসতে হয় উজ্জ্বলকে। কিন্তু এই দুঃসময়েও তাকে মনে রেখেছেন ব্রাউন। প্রবাসী এক সহকর্মীর কাছ থেকে তার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে নিয়মিত দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ হতো।
একপর্যায়ে ব্রাউন উজ্জ্বলদের বাড়িতে আসার কথা জানান। প্রথমে কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না উজ্জ্বলের। কিন্তু ব্রাউন যখন জানালেন তিনি নিশ্চিতভাবেই তাকে দেখতে আসছেন, তখনো কিছুটা সংশয় ছিল উজ্জ্বলের। বিষয়টি যখন উজ্জ্বল তার বাড়িতে জানান বিষয়টি কোনোভাবেই সত্যি ভাবতে পারেননি উজ্জ্বলের পরিবারের লোকজন। উজ্জ্বলের কথাও আবার তারা অবিশ্বাস করতে পারছিলেন না। চলে আশা-নিরাশার দোলাচল। এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ১৫ই অক্টোবর। সন্ধ্যায় উজ্জ্বলের বাড়িতে যখন ব্রাউন পা রাখলেন, তখন সকলের সব সংশয় দূর হয়ে যায়। বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশ, মানুষের আতিথেয়তা ও স্থানীয় বাজার ঘুরে মুগ্ধ ব্রাউন। মোটরসাইকেলে তিনি ঘুরে দেখছেন গ্রামের পথঘাট, নদীর পাড় ও স্থানীয় বাজার। ব্রাউন বলেন, চাকরির সুবাদে তিনি কাতারে ছিলেন। সেখানেই উজ্জ্বলের সঙ্গে তার পরিচয়। বাংলাদেশে এবারই প্রথম আসা। এখানে এসে তার খুব ভালো লাগছে। আগামী মঙ্গলবার তিনি কাতারে ফিরে যাবেন। উজ্জ্বল জানান, ব্রাউন তার সাবেক বস। তিনি খুব ভালো মানুষ। একদিন হঠাৎ ফোন করে ড্যানিয়েল জানতে চান, কেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে না। এরপর বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ব্রাউন।
