আধুনিক কৃষিযন্ত্রের যুগেও নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘোড়া দিয়ে হালচাষের কদর বাড়ছে। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষাবাদ চললেও ছোট ছোট খণ্ড জমি, বাড়ির আশপাশের আবাদি জমি এবং যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা কঠিন—এমন জমিতে কৃষকদের ভরসা হয়ে উঠেছে ঘোড়ার হাল। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামের এনামুল ইসলাম ওরফে মারেয়া। সরজমিন দেখা যায়, সাতসকালে উপজেলার উত্তর দুরাকুটি মন্ত্রী জামালের পাড়ার কৃষক আব্দুল গফুরের জমিতে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করছেন এনামুল। লাঙলের ফলা দিয়ে জমি তৈরি করছেন তিনি। এ সময় আশপাশের উৎসুক মানুষও তার কাজ দেখতে ভিড় করেন।
এনামুল জানান, একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবারেই গরুর হাল ছিল। কিন্তু ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহার বাড়ায় গরুর হাল প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বড় কৃষিযন্ত্র দিয়ে চাষ করতে গিয়ে অনেক ছোট জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। এসব জমিতে চাষাবাদের সুযোগ তৈরি করতেই তিনি ঘোড়া দিয়ে হালচাষ শুরু করেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক জোড়া ঘোড়া কিনতে তার খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। প্রায় আড়াই বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত তিনি। প্রতি ৩০ শতক বা এক বিঘা জমি চাষের জন্য নিচ্ছেন ৬০০ টাকা। তিনি আরও জানান, বাজারে এক জোড়া বলদ গরু কিনতে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাগে। তুলনামূলক কম টাকায় ঘোড়া কেনা যায়। ঘোড়ার খাবার ও পরিচর্যার খরচও তার কাছে তুলনামূলক কম বলে মনে হয়।
স্থানীয়দের মতে, ঘোড়া দিয়ে হালচাষের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃষকদের ছোট জমি চাষের সুযোগ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ কৃষির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকেও নতুন করে সামনে আনছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী এসব পদ্ধতি এখন বিলুপ্তির পথে। তবে তুলনামূলক কম খরচে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে এনামুল নিজের জীবিকার একটি ভালো ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন।
