ভাঙা সø্যাব, হেলেপড়া কাঠামো আর জরাজীর্ণ পাটাতন সব মিলিয়ে যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে সেতুটি। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবু বিকল্প কোনো পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের গরঘাটা গ্রামের গরঘাটা খালের উপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না করায় সেতুটির উপরের ঢালাই ও সø্যাব উঠে গেছে। বহু জায়গায় পাটাতন ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেতুর পিলারে জন্মেছে শেওলা ও লতাপাতা।
ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজে বের হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। ভাঙা পাটাতনের উপর দিয়ে পার হওয়ার সময় সামান্য অসাবধান হলেই খালের পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তবুও বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। ভোগান্তির শেষ নেই স্থানীয় কৃষকদেরও। উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিকটস্থ হাটবাজারে নেয়া এখন তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত শ্রম ও সময় ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য বাজারে তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় জরুরি চিকিৎসাসেবায়। কোনো মুমূর্ষু রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে এই সেতু পার হতে গিয়ে পোহাতে হয় অসীম দুর্ভোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি এমন বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে থাকলেও টেকসই কোনো সমাধান মিলছে না। প্রতিদিন শত শত মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান এই মাধ্যমটি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় জরাজীর্ণ সেতুটি অবিলম্বে সরিয়ে একটি নতুন, মজবুত ও টেকসই সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন গরঘাটা গ্রামের বাসিন্দারা।
