সিলেট-জগন্নাথপুর রোড। বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুরের মানুষের জন্য দুঃখই বলা চলে। বারবার ভাঙে। গড়া হয় না তেমন না। ভাঙা রাস্তার তকমা থেকে বের হতে পারছিলো না এ সড়কটি। বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু এই সড়কের উন্নয়ন হয় না। দুর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী। সুখবর এলো দু’দিন আগে।
গত বৃহস্পতিবারই এ সড়কের সংস্কার ও বর্ধিত কাজের জন্য প্রায় ১৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এসেছে। এতে খুশি সাধারণ মানুষ। হাসি ফুটেছে মানুষের মুখে। এলজিইডি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন— বিশ্বনাথ-পীরের বাজার-জগন্নাথপুর হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজের প্রাক্কলন (এস্টিমেট) অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বহুল প্রতীক্ষিত এই সড়কটির উন্নয়ন কাজের জন্য ১৩ কোটি ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৩২৭ টাকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এলজিইডি’র ‘সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরিত এক পত্রে সিলেট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর এই অনুমোদন পাঠানো হয়। সম্পূর্ণ উন্মুক্ত দরপত্র বা ই-জিপি পদ্ধতিতে এই কাজের ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। ঠিকাদারকে চুক্তি সম্পাদনের ৭ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে এবং পুরো কাজ শেষ করার জন্য ৫৪০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এলজিইডি এবার বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে।
শর্ত অনুযায়ী কাজের প্রতিটি স্তরে ল্যাব টেস্ট করা বাধ্যতামূলক এবং ল্যাব টেস্টের সন্তোষজনক রিপোর্ট ছাড়া ঠিকাদারকে কোনো বিল প্রদান করা হবে না। এ ছাড়া কাজের স্বচ্ছতা রক্ষার্থে কাজ শুরুর আগে, চলাকালীন এবং শেষের একই স্থানের রঙিন ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করার কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন— বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত এ সড়কের কাজ শুরু হবে। এদিকে প্রকল্প অনুমোদনের পর এলাকার সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবিরের রাজনৈতিক সহকারী শামীম চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিশ্বনাথবাসীকে সুখবর দিয়েছেন। ‘বিশ্বনাথবাসীর জন্য সুখবর’ শিরোনাম দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন- ‘বিশ্বনাথের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ভাইয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও আন্তরিক উদ্যোগে বিশ্বনাথ উপজেলাধীন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুর থেকে জগন্নাথপুর রোডের বিশ্বনাথ অংশের প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজের জন্য প্রায় ১৪ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদপ্তর। বিশ্বনাথবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
শামীম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন— সিলেট-২ আসনে শুধু এই প্রকল্পই নয়, আরও অনেক প্রকল্প আসবে। এসব প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমোদন করে নিয়ে আসতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজ করছেন। এ ছাড়া সিলেটের উন্নয়নে তিনি আন্তরিক ভূমিকা রাখছেন বলে জানান শামীম চৌধুরী। এদিকে এ প্রকল্পের কৃতিত্বের দাবিদার সিলেট-২ আসনের এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনার বলে জানিয়েছেন এমপি’র একান্ত সহকারী ও সিলেট জেলা বিএনপি নেতা মো. ময়নুল হক। তিনি জানিয়েছেন— এই প্রকল্পের জন্য তাহসিনা রুশদীর লুনা এমপি অনেক আগে থেকেই ডিও লেটার দেয়াসহ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নানা কাজ করেছেন। নির্বাচনের সময়ও এই সড়ক উন্নয়নের বিষয়টি প্রতিশ্রুতি ছিল।
