সিলেটের গোলাপগঞ্জের মছলম উদ্দিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নগরীর মিরাবাজারস্থ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলরুমে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তাদের ওপর এ ধরনের হামলা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপদ পরিবেশ ও শিক্ষক সমাজের মর্যাদার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষক সমাজ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি তাদের পরিবারকেও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। শিক্ষকদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে শিক্ষক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ার করেন। বাশিস সিলেট জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আহমদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সচিব অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন— জেলার সাবেক সভাপতি এ এইচ এম ইসরাইল আহমদ, কানাইঘাট শাখার সভাপতি ফজলুর রহমান, সিলেট মহানগর সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন, সিলেট জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ আহমদ, মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, জেলার অতিরিক্ত সচিব রিপন সূত্রধর, সহকারী সচিব ও কানাইঘাট উপজেলার সচিব মো. এনামুল হক, জেলার শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জাবের আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক ও বিয়ানীবাজার শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ হাকিম আহমদ, দপ্তর সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক আসমা আক্তার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান, তথ্য সচিব মো. নাজমুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার বাশিসের সচিব অসীম কান্তি তালুকদার, গোলাপগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি মো. মুক্তার হোসেন, বাশিসের প্রকাশনা সম্পাদক মো. আফতাব উদ্দিন, মহানগর শিক্ষক সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. আবুল কালাম প্রমুখ।
প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত প্রধান শিক্ষকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন। এ ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।
