নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তার স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার সাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে এদিন দুপুরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ডিটপুর সুনই গ্রামে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আলিফ ফকির আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ডিটপুর সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে।
এদিকে আলিফ ফকিরের ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ৬টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৫টি গুলি তার শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। আরেকটি গুলি তার পিঠের ভেতরে আটকে ছিল।
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে জেলার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের এলাকায় তেলনজিয়া গ্রামে শশুর বাড়ির পাশে একটি চা দোকানের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় আলিফ ফকিরকে। তিনি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রোটোকল টেলিভশন) রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন, সেখানে সীমান্ত চোরাচালান, মাদক, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট ও তথ্য প্রকাশ করতেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ, ঘটনার আলামত বিশ্লেষণ, আলিফের ফেসবুক পেজের পোস্ট, ভিডিও, সবকিছুকে আমলে নিয়ে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
