চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের আহ্বানে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলেও এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সিন্ডিকেট সদস্যকে অংশ নিতে দেখা যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত সভায় যুক্ত থাকা এক সদস্যের বক্তব্যে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সভায় অংশ নেওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান জানান, তিনি পুরো সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে যতক্ষণ যুক্ত ছিলেন, ততক্ষণ চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্যকে সভায় যোগ দিতে দেখেননি। ওই সময়ে চার থেকে পাঁচজন সদস্য অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি। সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে উপাচার্যই বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন এই সদস্য।
চুয়েটের প্রচলিত নিয়মে সিন্ডিকেট সভা সাধারণত সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়। কোনো সদস্য বিশেষ কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এবার পুরো সভা অনলাইনে আয়োজন করাকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মোট ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। সদস্যসচিবের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তিনি আগেই রেজিস্ট্রার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে সদস্যসচিব হিসেবেও তিনি আর দায়িত্বে নেই। সভার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, পরিবার নিয়ে বান্দরবানে ছুটিতে থাকায় তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি। সভার বিষয়ে তার কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্যও নেই। আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল জানান, তার মা অসুস্থ থাকায় সভায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, চুয়েটের ভেতরে ও বাইরের আরও কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। সভার বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও আন্দোলনে যুক্ত হন। বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মিছিল ও কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
গত ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবনে গেলে আন্দোলনকারীরা তাকে অবরুদ্ধ করেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ বোধ করায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৫ অক্টোবর তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফেরেন।
এ অবস্থায় ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। তবে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সিন্ডিকেট সদস্যকে দেখা না যাওয়ার তথ্য সামনে আসায় সভার কার্যকারিতা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চলতে থাকায় চুয়েটে অচলাবস্থার অবসান হয়নি।
