ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

ফন্ট সাইজ:

জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিবাদে আজ শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন, জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী এবং কৃষকদের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক দাবিকে একত্র করার চেষ্টা চলছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম টিএফ১ ইনফোর ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয়বিরোধী এই কর্মসূচিকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই দিনে এএফপির প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিভি৫মোঁদ জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ন্যুনেজের দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০০টি কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল এবং ৯০টির বেশি মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। অন্যদিকে, আয়োজকদের তৈরি অনলাইন মানচিত্রে এক হাজারের বেশি সম্ভাব্য সমাবেশস্থলের উল্লেখ রয়েছে। তবে এই তালিকায় ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্যও রয়েছে। তাই সব স্থানকে নিশ্চিত বা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে গণ্য করা যায় না।
আন্দোলনের সূত্রপাত জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোস থেকে। পরবর্তী সময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে সমালোচনাও এতে যুক্ত হয়েছে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে বর্তমান কর্মসূচির যোগসূত্র তুলে ধরছেন আয়োজকদের একাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গিলে ঝ্যুন’ বা ‘ইয়েলো ভেস্ট ও তরুণদের আন্দোলন’ ধারণাটি প্রচার করা হচ্ছে।
লে মোঁদ–এর ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবরের কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার বার্তা প্রকাশিত হয়েছে বলে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভিজিব্রেইন জানিয়েছে। এসব বার্তার একটি অংশে শিক্ষার্থীদের দাবিও উঠে এসেছে। তবে অনলাইনে প্রচারের ব্যাপ্তি থেকে সরাসরি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও এবারের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সের বিভিন্ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিকল্প ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ‘পারকুরসুপ’ (Parcoursup) ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করে, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের দাবি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোস বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে।
প্রধান শ্রমিক সংগঠন সিজিটি (CGT) শিক্ষার্থী ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিরোধী আন্দোলনের দাবিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য, বিভিন্ন পেশা ও বয়সের মানুষের অসন্তোসকে একই কর্মসূচিতে তুলে ধরা। তবে সব সংগঠন একইভাবে বা একই স্থানে অংশ নিচ্ছে—এমনটি নিশ্চিত নয়।
বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ফরাসি প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর সম্ভাব্য সংঘর্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো অবরোধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। প্যারিসে মিছিলের অনুমোদিত পথ নিয়েও আয়োজক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকানোর কথা জানিয়েছে।
১৭ অক্টোবরের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার প্রশ্নকে জাতীয় আলোচনায় সামনে আনা। শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় কতটা গড়ে ওঠে, তা ফ্রান্সের চলমান সামাজিক আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।