একটি ঘটনা নাড়া দিয়েছে সবাইকে। সিলেটের সহকারী শিক্ষা প্রকৌশলী শাহীন হোসেনের বাসায় জোরপূর্বক ঢুকে তাকে মারধর করা হয়েছে। চাঁদার দাবিতে এমনটি করা হয়েছে। বিষয়টি চেপে রাখতে পরবর্তীতে ভয়ের পরিবেশও সৃষ্টি করা হয়। এরপর থেকে আতঙ্কে আছেন সিলেট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসার পর তার নির্দেশে ওই সহকারী প্রকৌশলী জিডি করেছেন। তবে ঘটনার গর্ভে মামলার ধারা বিদ্যমান থাকায় পুলিশ সেটিকে এজাহার হিসেবে দাখিল করার কথা বলে দিয়েছে। পাঁচদিন ধরে ঘটনাটি সিলেটে ঘুরপাক খাচ্ছে। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনার বিবরণ। অহেতুক ঝামেলা এড়াতে বিষয়টিকে ‘চেপে’ যেতে চাইছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তারা। ঘটনাটি গত ১২ই অক্টোবর রাতের। সিলেট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শাহীন হোসেনের বাসা নগরের মোগলটুলা এলাকায়। জিডিতে শাহীন উল্লেখ করেন- ওই দিন ভোররাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে দরজা ভাঙার উপক্রম হলে তিনি দরজা খুলে দেন।
এ সময় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম সহ কয়েকজন জোরপূর্বক বাসার ভেতরে ঢুকে পড়েন। চাঁদার দাবিতে তারা প্রকৌশলী শাহীন আহমদকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার বাসার বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করেন এবং খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। জিডিতে তিনি জানান- এতে তিনি বাধা দিলে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে বের করে নেয়ার চেষ্টা করেন। এলাকায় থাকতে হলে তাদের টাকা দিতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। পরদিন কয়েকজন যুবক অফিসে গিয়ে তাকে শাসিয়ে আসেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে বারণও করেন। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে পরদিন সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন ওই ঠিকাদার। এ সময় জেলা প্রশাসক তাকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। প্রকৌশলী শাহীন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি বিষয়টি জানিয়ে কোতোয়ালি থানায় অনলাইনে জিডির আবেদন করেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে পরদিন যারা অফিসে এসেছিল তারাও নিজেদের বিএনপি ও যুবদল নেতা বলে পরিচয় দিয়েছে। অফিসে এসে তারা ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ তাদের দেয়ার কথা বলে যায়। তবে ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর এ নিয়ে গণমাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই প্রকৌশলী গভীর রাতে বাসায় যাওয়ায় এলাকার মানুষের সন্দেহ হয়। পরে তিনি এলাকার কয়েকজন মুরুব্বি প্রকৌশলীর বাসায় খবর নিতে যান। ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে।
বিষয়টির সমাধান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সিলেট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান ঘটনাটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, অভিযোগে যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা যায়। এজন্য এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে এজাহার দেবেন বলে জানিয়েছেন ওই প্রকৌশলী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে তোলপাড় চলছে। ঠিকাদাররা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ। কয়েকজন ঠিকাদার জানিয়েছেন, এটি স্রেফ চাঁদাবাজির ঘটনা নাও হতে পারে। এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে জাহাঙ্গীরের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা এসেছে। এতে করে গোটা অফিসেই ভয়ের পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। অজানা আতঙ্ক তাদের ঘিরে রেখেছে।
