রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে ইউক্রেনের। ফলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিতে পড়েছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন সময় এই সংকট সামনে এলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির জন্য সমালোচিত একটি চুক্তি করেছে হোয়াইট হাউস। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
এনিয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তিতে তিনি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন। এরপরও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গত কয়েক মাস ধরেই জেলেনস্কি সতর্ক করে আসছেন যে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতা রয়েছে এমন অল্প কয়েকটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্যাট্রিয়টের ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে আসছে।
এসব ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে এগুলোর সরবরাহও সীমিত। ইরান যুদ্ধের মধ্যে বিভিন্ন দেশ নিজেদের মজুত ব্যবহার করায় কিংবা নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোরদার করতে চাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রটি সিএনএনকে বলেছে, ‘সর্বশেষ হামলায় ছোড়া প্রায় সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা যায়নি। কারণ, সেগুলো ধ্বংস করার মতো ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ছিল।’
গত বুধবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত চালানো ওই হামলায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানে। খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই দিন কিয়েভে চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করছেন। যদিও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে ইরান যুদ্ধের প্রভাব আরও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্রদের সতর্ক করে বলেছে, কিয়েভ রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বন্ধ না করলে ইউরোপের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি এবং ইউক্রেনের জন্য গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগন ইউক্রেন এবং ইউরোপের কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে বার্তা পাঠায়।
এমনকি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারাও সরাসরি ইউক্রেনের কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে ট্রাম্প পরে জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনের জন্য ইউরোপের মার্কিন অস্ত্র কেনার একটি বিশেষ ব্যবস্থার নাম ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা পিইউআরএল। এই ব্যবস্থায় অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা হলে ভবিষ্যতে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্টারশিল্ড সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের পাশাপাশি এ সপ্তাহে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে আরও একটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ডের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সময়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্টারশিল্ডের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়ায় তারা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন। এর ফলে সামরিক অভিযান, রসদ সরবরাহ এবং জেটচালিত ড্রোন প্রতিহত করার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে স্টারশিল্ডের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্বাভাবিক হয়। তবে দ্রুতগতির সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, স্টারশিল্ড ব্যবস্থার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে। এর গতি কিংবা ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্তও মার্কিন সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারভুক্ত।
