চ্যাম্পিয়নস লীগের রাতে রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে যা ঘটলো, তাকে অলৌকিক বললেও কম বলা হয়। ঘরের মাঠে ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩–১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না রোমার। স্রেফ ৭ মিনিটের ঝড়ে ৪–৩ গোলের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ। আর এই রূপকথার জয়ের পেছনের অন্যতম কারিগর তরুণ ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার এন্ড্রিক, যিনি মাঠে নামার আগে বেঞ্চে বসে ‘ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলছিলেন’। চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসে দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও চার ম্যাচে জয় তুলে নেয়ার অনন্য রেকর্ড এখন রিয়ালের দখলে।
ম্যাচে যখন ৩-১ গোলে অল হোয়াইটরা পিছিয়ে, ঠিক তখনই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন জোসে মরিনহো। ৫৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ডামফ্রিজকে তুলে মাঠে নামান এন্ড্রিক ও আর্দা গুলেরকে। আর এই বদলি সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। চলতি মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে এর আগে মাত্র ৪ মিনিট খেলার সুযোগ পাওয়া এন্ড্রিক যেন অপেক্ষা করছিলেন এমন একটি মুহূর্তের জন্যই। ম্যাচের রোমাঞ্চকর অনুভূতি জানিয়ে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের আবেগ তখনো আমার ভেতর কাজ করছিল। আমি বেঞ্চে বসে ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ঠিক তখনই নুনো আমাকে ডাকলো। আমি মাঠে নামলাম এবং ঈশ্বরের সঙ্গে কথা চালিয়ে গেলাম, কারণ ভাবিনি এত কম সময়ে আমাকে নামানো হবে। মাঠে নেমে আমি আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজটিই করতে পেরেছি-ফুটবল খেলা।’
এন্ড্রিক মাঠে নামার সময় রোমা আরেকটি গোল দিলেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সেলেসাও তরুণ বলেন, ‘মরিনহোর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখি ম্যালেন গোল করেছে। তবে আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, স্কোর যাই হোক আমরা লড়াই করতেই নামি।’
৮৩ মিনিটে এন্ড্রিকের শট থেকেই ফিরতি বল জালে পাঠান কার্লোস এসপি। মিনিট দুয়েকের মধ্যে রোমার রক্ষণকে বোকা বানিয়ে হেডে দুর্দান্ত গোল করেন খোদ এন্ড্রিকই। সঙ্গে অন্তিম মুহূর্তে আন্তোনিও রুডিগারের গোলে ৩-১ থেকে ৪-৩ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। ২০০৪ সালে রোমা, ২০২৩-এ লিভারপুল, ২০২৪-এ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এবং বুধবার রাতে আরেকবার রোমা-চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসে প্রথম ক্লাব হিসেবে চার ম্যাচে ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে নেয়ার কীর্তি গড়ে রেকর্ড ১৫বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ভিনির এল ক্লাসিকো মিস, ক্ষোভে ফুঁসছেন মরিনহো
এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর ক্ষোভ উগরে দেন রিয়াল বস মরিনহো। ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ভিনির চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর এসে পৌঁছায় দলের বাসে। রোমার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ওপর চড়াও হন পর্তুগিজ এই ট্যাকটিশিয়ান।
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গত ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ার পর ভিনিকে চার ম্যাচের কঠিন শাস্তি দেয় স্প্যানিশ ফেডারেশন, যা আগামী ২৫শে অক্টোবরের এল ক্লাসিকোর আগে রিয়ালের জন্য বড় ধাক্কা। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে মরিনহো বলেন, ‘আপনারা কি মনে করেন এটা স্বাভাবিক? এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচের ঠিক দুই ঘণ্টা আগে জানানো হলো খেলোয়াড় চার ম্যাচ নিষিদ্ধ! তারা কি সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতো না? আপনি একটা দলের ওপর এভাবেই আক্রমণ চালাতে চান?’
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে সেই ম্যাচে চুল টানাটানির অভিযোগে ভিনি নিষিদ্ধ হলেও কোচের দাবি, এমন টাইমিংয়ে সিদ্ধান্ত আসায় খেলোয়াড় মানসিকভাবে ধাক্কা খেয়েছেন। রোমার দ্বিতীয় গোলটির বিল্ড-আপে বল হারিয়ে ফেলেন ভিনি। এরপর ৫৬ মিনিটে তাকে তুলে নেন মরিনহো। বদলি হওয়ার পর ভিনির রাগ করাটা স্বাভাবিক ছিল বলেই মনে করেন মরিনহো। তিনি বলেন, ‘ভিনি ভুল করতেই পারে, কিন্তু ম্যাচ শেষে সে জয় নিয়ে ভীষণ খুশি।’
