দক্ষ চালক তৈরিতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

দক্ষ চালক তৈরিতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দক্ষ চালক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দক্ষ চালক তৈরি করলে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে। আগামী তিনমাস পর এই প্রশিক্ষণের অগ্রগতি দেখা হবে। এছাড়াও বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে প্রশিক্ষণার্থীদের বামপাশে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি সড়কের সংকেত, আধুনিক ট্রাফিকব্যবস্থা ও গাড়ির মৌলিক যান্ত্রিক বিষয়েও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারীদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষদের কাছে গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর যে অভিযোগ রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশে বামপাশে গাড়ি চালানোর নিয়ম থাকায় বাংলাদেশ থেকে ডানপাশে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে যাওয়া চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই দেশেই বামপাশে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বিদেশে গিয়ে তাদের কাজ করা সহজ হবে। পাশাপাশি নেভিগেশন, সড়কের মানচিত্র ও প্রয়োজনীয় সংকেত সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

বাংলাদেশের যানজটপূর্ণ সড়কে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানো চালকদের জন্য বড় ধরনের দক্ষতার বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা বিদেশে কাজে লাগতে পারে।
প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, হাতে-কলমে পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গাড়ির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারার পরই তাদের সড়কে চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। এর আগে মাঠ বা উপযুক্ত খোলা জায়গায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শুরুর আগে প্রশিক্ষণার্থীদের চোখ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কারও চোখে সমস্যা থাকলে তাকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের পরিবর্তে অন্য উপযোগী প্রশিক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। কারণ, চোখের সমস্যা থাকলে বিদেশে গিয়ে লাইসেন্স পেতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিকব্যবস্থায় সড়কের সংকেত, বিশেষ করে লাল বাতি ও অন্যান্য নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের ভালোভাবে শেখাতে হবে। পাশাপাশি ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। বিদেশের অনেক শহরে স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হয়। তাই নারীদের প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।

গাড়ির যান্ত্রিক বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সব সময় গাড়ির সঙ্গে প্রকৌশলী থাকবেন না। তাই গাড়িতে হঠাৎ কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে তা শনাক্ত ও সমাধানের মতো ধারণা প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা প্রয়োজন। এতে তারা নিজেরাই ছোটখাটো সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবেন।

প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকির বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুর তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের অগ্রগতি প্রতিবেদন নেওয়া হবে। কতজনকে বামপাশে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে সরেজমিনে কার্যক্রম পরিদর্শন করা হবে যেকোনো সময়। যেসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অধ্যক্ষ বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ করে তুলতে পারবেন, তাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।
প্রশিক্ষণের গাড়িগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, গাড়িগুলো শুধু প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত জ্বালানি, ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন ও সার্ভিসিং নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গাড়ি দ্রুত বিকল না হয়। গাড়ি বিকল হলে প্রশিক্ষণার্থীরা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই গাড়িগুলো সচল রাখা সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ। এ সময় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আটটি বিভাগের প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ৬৪টি টিটিসির অধ্যক্ষ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।