অসুস্থ সাজতে মুখে মেকআপ, একসঙ্গে পাঁচ সরকারি চাকরি করতেন বাংলাদেশি

বৃটিশ আদালতে প্রতারণার অভিযোগ

অসুস্থ সাজতে মুখে মেকআপ, একসঙ্গে পাঁচ সরকারি চাকরি করতেন বাংলাদেশি

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাশিম চৌধুরী (৫৫)। যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে একসঙ্গে পাঁচটি সরকারি চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থতার অভিনয় করতে তিনি মুখে সাদা মেকআপ করতেন। এভাবে ছুটি কিংবা বাড়িতে বসে কাজ করতেন। এ সুযোগে একসঙ্গে পাঁচটি পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি করতেন তিনি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব চাকরি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে বৃটিশ আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা চলছে। তবে কাশিম চৌধুরী সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানিতে কাশিম চৌধুরীর অসুস্থতার অভিনয় করার একটি ঘটনা উঠে আসে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি অসুস্থতাজনিত ছুটি চান। যা নিয়ে আলোচনার জন্য ভিডিও বৈঠকের আয়োজন করেন এজেন্সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলিশা অ্যাডামস। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৈঠকে কাশিমের মুখে সাদা মেকআপ ছিল। যাতে তাকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। কিন্তু কথা বলার একপর্যায়ে কপালের মেকআপ খসে পড়তে শুরু করে। এতে নিচের প্রকৃত ত্বক দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এজেন্সিটি আদালতকে জানায়, সে সময় তিনি পাঁচটি পূর্ণকালীন চাকরির বেতন পাচ্ছিলেন। মামলার কৌঁসুলি লুসি অর্গান আদালতে বলেন, ভিডিও বৈঠকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অসুস্থতার অভিনয় করতে অভিযুক্ত মুখে মেকআপ লাগিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ঘটনাটি অভিযুক্তের প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানে চাকরি
আদালতে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, করোনা মহামারির পর বাড়িতে যুক্তরাজ্যে বসে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। অভিযুক্ত কাশিম চৌধুরী সেই সুযোগ কাজে লাগান। এরপর শুরু হয় একের পর এক বাহানা। অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার কারণ দেখিয়ে তিনি অফিসে বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ চান। এরপর তাকে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতিও দেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কাশিম চৌধুরীর টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ (ডেফরা), হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগে একসঙ্গে চাকরি করতেন। চাকরির আবেদন করার সময় নিজের কর্মসংস্থান ও নিজের অবস্থার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিতেন। মামলার কৌঁসুলিদের দাবি, উদ্বেগ ও বিষণ্নতাজনিত সমস্যার কারণে কয়েকটি চাকরিতে কাশিম চৌধুরীকে অসুস্থতাজনিত ছুটি দেয়া হয়েছিল। তবে তিনি সব অফিসে চিকিৎসকের ছুটির সনদ জমা দেননি। একপর্যায়ে একাধিক চাকরির কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে শুরু করেন কাশিম। কাজের মধ্যে বিভিন্ন ভুল করতে শুরু করেন। এরপর তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

যেভাবে সামনে আসে অভিযোগ: যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত হয়। এরপর বিষয়টি ডেফরার নজরে আসে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম এখনো চলছে। এছাড়াও কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অসৎভাবে কাজ কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থ উপার্জন করার চেষ্টার অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি।