বাংলাদেশ সফরে স্পিনের চ্যালেঞ্জ থাকবেই, তবে স্বাগতিকদের পেস আক্রমণকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ইংলিশদের। সেই সফর সামনে রেখে দলের ভারসাম্য ও স্পিন বোলিংয়ের বিকল্প বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। প্রধান নির্বাচক মার্কাস নর্থের মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে তাদের। উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে নর্থ বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ভালো ক্রিকেট দল, ভালো টেস্ট দল। সেখানে গিয়ে শুধু ভালো স্পিনারদের মুখোমুখি হতে হবে, বিষয়টা এমন নয়; তাদের বেশ কয়েকজন ভালো পেসারও আছে।
আমরা জানি, সফরটি আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে ওই কন্ডিশনে সব ধরনের বিকল্প কাজে লাগাতে পারে, এমন একটি দল আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’ বাংলাদেশের কন্ডিশনে স্পিনারদের পাশাপাশি পেস আক্রমণ সামলানোর প্রস্তুতিও নিতে চায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘদিন পেস বোলিং নিয়ে কাজ করার পর এবার স্পিনারদের উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ইসিবি। স্পিন বোলিং বিভাগের দায়িত্বে রিচার্ড ডসনের নিয়োগকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন নর্থ। ডসন একইসঙ্গে স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের নতুন সহকারী কোচদের একজন হিসেবেও কাজ করবেন। নর্থ বলেন, ‘পেস বোলিং নিয়ে যেমন একটি প্রকল্প ছিল, তেমনি এখন আমাদের বেশ কয়েকজন স্পিনার এসেছে, যাদের নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করতে পারি। আমরা এমন জায়গায় পৌঁছাতে চাই, যেখানে যথেষ্ট গভীরতা থাকবে।’ ইংল্যান্ডের ২০২৬-২৭ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন স্পিনার শোয়েব বশির ও রেহান আহমেদ। ডেভেলপমেন্ট চুক্তি পেয়েছেন ম্যাসন ক্রেন, জেমস কোলস ও লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট। এই স্পিনারদের গড়ে তুলে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করতে চায় ইংল্যান্ড।
তবে সাম্প্রতিক টেস্টে বিশেষজ্ঞ স্পিনারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পথে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলায়নি ইংল্যান্ড। ড্যান লরেন্স ও জো রুটের অফ স্পিনের ওপর নির্ভর করেছে দলটি। শোয়েব বশিরকে থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে। ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও কাছাকাছি ভারসাম্য নিয়ে দল সাজাতে পারে তারা। এদিকে, অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচের ফেরার সম্ভাবনা আপাতত কম। ৩৫ বছর বয়সী এই স্পিনার ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে ৩৯ টেস্টে তার শিকার ১৪২ উইকেট। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। লিচের বিষয়ে নর্থ বলেন, ‘সমারসেটের হয়েও সে অসাধারণ পারফর্ম করে যাচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে উন্নয়ন চুক্তি ও কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা দেখলে বোঝা যায়, আমরা কিছুটা ভিন্ন পথে মনোযোগ দিচ্ছি।’ ২০২৮ সালের শুরুর দিকে ভারত সফরে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। আপাতত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পরিকল্পনায় লিচের চেয়ে চুক্তিবদ্ধ স্পিনারদের গড়ে তোলার দিকেই বেশি মনোযোগী তারা।
