ছয় বারের ইউরোপসেরা বায়ার্ন মিউনিখকে আটকে দিয়ে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন করলো ভাইকিং। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর প্রথম বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলতে এসেই বায়ার্নের সঙ্গে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লো নরওয়ের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় জিয়ানি স্টেনসনেসের হেডে এগিয়ে যায় ভাইকিং। ৩৮ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পিটার ক্রিস্টিয়ানসেন নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ায় বায়ার্ন। ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোল এবং লুইস দিয়াজের লক্ষ্যভেদে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাভারিয়ানরা। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে মাইকেল ওলিসে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মুখে বল ছুড়ে মেরে দু’টি হলুদ কার্ডের মাশুল গুনতে হয় তাকে। ১০ জনের বায়ার্ন ব্যাকফুটে চলে গেলে আক্রমণের ধার বাড়ায় ভাইকিং। বদলি নেমে হেডে গোল করে সমতা ফেরান হারমান হাউগেন, যা শেষ পর্যন্ত ভাইকিংকে অবিস্মরণীয় এক পয়েন্ট এনে দেয়।
২০১৮ সালেও নরওয়ের দ্বিতীয় বিভাগে খেলা ক্লাবটির এই উত্থান রূপকথার মতো।
গত মৌসুমে ৩৪ বছর পর নরওয়েজিয়ান শীর্ষ লীগের নবম শিরোপা জেতে তারা। ২০১৭ সালে অবনমনের পর ক্লাবের কিংবদন্তি বিয়ার্নে বার্নটসেনের অধীনে ঘরে ফেরে তারা। স্থানীয়দের প্রাধান্য দিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ায় স্টাফাঙ্গারের এই ক্লাবটি। বার্নটসেনকে বিদায় দেয়ার পর দুই সহকারী কোচ মোর্টেন জেনসেন এবং বিয়ার্তে আরশেইমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাদের যৌথ পরিচালনাতেই যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকার পাশাপাশি ইউরোপে বাজিমাত করছে তারা। ২০০২ সালে উয়েফা কাপে চেলসিকে হারানোর পর এটি তাদের অন্যতম বড় সাফল্য।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ভাইকিং অধিনায়ক জলাতকো ত্রিপিক বলেন, ‘আমি আরও ৯০ মিনিট খেলতে পারতাম। আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই মুহূর্তটির জন্য আমি ৩৪ বছর অপেক্ষা করেছি। আমরা বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলেছি, তবুও আমরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাই। আমার মনে হয় আমরা অত্যন্ত দৃঢ় ম্যাচ খেলেছি।’
অন্যদিকে বায়ার্ন বস ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, ‘আমরা মাঠের ফুটবলে আধিপত্য দেখিয়েছি, কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে প্রতিপক্ষের প্রতিটি সুযোগই গোলে রূপ নিচ্ছে। এটা আমাদের নিজেদের ভুল ছিল। লাল কার্ডটা একদমই বোকামি ছিল... (ওলিসের) চোখে দেখা যাচ্ছিল যে, সে অনুতপ্ত এবং দলকে বিপদে ফেলার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছে।’
মেসিকে টপকে রোনালদোর আরও কাছে কেইন
ভাইকিংয়ের দুর্দান্ত রূপকথার দিনেও নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় আলাদাভাবে লেখান কেইন। ৩০ বছর বয়সে পা দেয়ার পর চ্যাম্পিয়নস লীগে ৪০ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ৩৬টি। এর মাধ্যমে তিনি বয়সের কোঠায় ৩০ পেরোনো খেলোয়াড়দের মধ্যে লিওনেল মেসির ৩৫ গোলের রেকর্ড টপকে শীর্ষে উঠে এসেছেন। শুধু তাই নয়, ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড চ্যাম্পিয়নস লীগে টানা ৯টি ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরে টানা নয় বা তার বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড আগে ছিল কেবল রুড ভ্যান নিস্টলরয়, রবার্ট লেভানদোভস্কি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। এর মধ্যে টানা ১১ ম্যাচে গোল করে রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছেন রোনালদো।
